মেইন ম্যেনু

মা দিবসে বাঁধন ও তাঁর মেয়ে সায়রা

৮ মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতিটি সন্তান তাঁর মাকে নিয়ে বিশেষভাবে এই দিনটি পালন করে থাকেন। শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের সন্তানরাও এর বাইরে নন। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের একমাত্র মেয়ে সায়রার বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর। পড়ছে সানবিমস স্কুলের প্লে-গ্রুপে। মা দিবসে এতটুকু বয়সেই রয়েছে সায়রার বিশেষ পরিকল্পনা। তা নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন…

আলাপের শুরুতেই সায়রার কাছে জানতে চাওয়া হয় সে মা দিবস বোঝে কি-না? তার উত্তরে রীতিমতো অবাক হতে হয়। সে নাকি এ বছর নয়, গত বছরেই স্কুল থেকে মা দিবস সম্পর্কে জেনেছে। তাই সেবার স্কুল থেকে মায়ের জন্য বানিয়ে দেওয়া কার্ড উপহার পেয়ে বাঁধন নাকি চোখের জল ফেলে দিয়েছিলেন।

শোনা যাক তার মুখেই, ‘তখন সায়রার বয়স মাত্র তিন বছর। একটি প্রি-স্কুলে পড়ত। সেখান থেকেই সবাইকে হ্যাপি মাদারস ডে লেখা একটি কার্ড বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি এর কিছুই জানতাম না। শুটিং থেকে বেশ রাত করে বাসায় ফিরে বেশ ক্লান্ত হয়েই শুয়ে আছি। সাধারণত আমি দেরি করে বাসায় ফিরলে ও খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সেদিন দেখি জেগে রয়েছে। তা দেখেই আমি অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু আসল সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছিল একটু পরেই। সে আমার কাছে এসে বলল, মা চোখটা একটু বন্ধ কর। আমি ভাবলাম হয়তো কিছু এঁকেছে তাই দেখাবে। কারণ এত ছোট বয়সে মাদারস ডে কি তা ও বুঝতে পারবে এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। পরে চোখ খুলে দেখলাম, সুন্দর একটি কার্ড আমার হাতে দিয়ে ও আধো আধো কণ্ঠে বলে উঠল হ্যাপি মাদারস ডে। সেই শব্দ এখনও আমার কানে বাজে। ওটাই ওর কাছ থেকে পাওয়া প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ।’

বাঁধন আলোচনা থেকে উঠে একটু দূরে যেতেই সায়রার কাছে চুপি চুপি জানতে চাইলাম এবার মা দিবসে মাকে কি উপহার দিচ্ছ? মা যাতে শুনতে না পারে তাই সায়রা কণ্ঠ একটু নিচু করে বলতে লাগল, ‘এবার একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছি। মায়ের জন্য সুন্দর একটা কার্ড বানিয়ে দিয়েছে স্কুল থেকে। এ ছাড়া পোলাও, গরুর মাংস, ফিরনি-পুডিংসহ অনেক কিছু রান্না করব।’ তার এই উত্তরে চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। তাই অগত্যা বাঁধনের কাছেই জানতে চাইলাম, ‘সায়রা নাকি পোলাও-কোরমা রাঁধতে পারে?’

তিনি হাসতে হাসতে বলতে লাগলেন, ‘আমার মেয়ে আমাকে অনেক ক্ষেত্রেই অনুকরণ করে। ও তো প্রায়ই দেখে আমি কারও বার্থডে অথবা বিশেষ দিনে রান্না করে খাওয়াই। তাই সেও কাউকে খুশি করার জন্য রান্না করে খাওয়ায়। তবে সত্যি সত্যি তো আর পারে না। ওর একটা ফলস কিচেন আছে, সেখানে মনে মনে অনেক কিছু রান্না করে প্লেডো দিয়ে পরিবেশন করে (হা হা হা)।’

আবার আসি সায়রার কাছে। জানতে চাই মার থেকে পাওয়া সেরা উপহার কি? মুহূর্তেই তাঁর মুখ আনন্দে ঝলমল করে ওঠে। আর বলতে শুরু করে, ‘মা তো আমাকে সব কিনে দেয়। ড্রেস, জুতা, রঙপেন্সিল, গল্পের বই, পড়ার টেবিল ইত্যাদি…।’ এরমধ্যে সবচেয়ে কোন উপহারটা তোমার ভালো লেগেছে? ‘আমার সবগুলোই ভালো লাগে।’

আচ্ছা, তোমার মাকে তুমি কতটা ভালোবাসো? সায়রা লাজুক হেসে তার হাত দুটি যতটা ছড়ানো সম্ভব ছড়িয়ে বলে ‘এতটা ভালোবাসি’। তারপর নিজেই বলতে শুরু করে, ‘জান মামা, আমি মায়ের সঙ্গে যেখানেই যাই সেখানকার সবাই মাকে চিনে ফেলে। আমাকে সবাই অনেক আদর করে। আমার খুব ভালো লাগে।’ তার এই কথায় বোঝা যায় এতটুকু বয়সেই মায়ের সেলিব্রেটি হওয়াটা তার কাছে অনেক বড় গর্বের বিষয়।

তোমার মা-তো শুটিং নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যায়? ঘোরার কথা শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে সায়রা বলল, ‘আমরা তো ভ্যাকেশন প্ল্যান করি। আমার স্কুল ছুটি থাকলে মা শুটিং করে না। আমাকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে বের হয়। মা টাকা জোগাড় করে আর আমি কাপড়-চোপড় সব গুছিয়ে রাখি। আর মা যেদিন বাসায় থাকে সেদিন আমাকে নিয়ে পার্কে যান, মুভি দেখান অথবা কেএফসিতে খেতে নিয়ে যান।’

তুমি যা চাও সবসময় কি তোমার মা তাই করতে দেন? সায়রা এবার কিছুটা সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলতে লাগল, ‘বেবিরা তো সব কিছু বুঝতে পারে না। তাই একটু আধটু ভুল তো করেই ফেলে। আমি যখন কোন ভুল করি তখন মা-তো নিষেধ করবেই (বলেই লজ্জা পেয়ে একেবারে হেসে ফেলল)।’ মার কোন জিনিসটা তোমার সবচেয়ে ভালো লাগে, ‘আমার মা-তো সুপার মম। আমি যখন যা চাই তখনই তাই এনে দেয়। আমাকে মজার মজার খাবার রান্না করে খাওয়ায়। এসবই আমার ভালো লাগে। তাই তো আমি মাকে অনেক অনেক ভালোবাসি’। ছোট্ট মেয়ে সায়রা আর তার মা বাঁধনের সঙ্গে আলাপচারিতায় মা-মেয়ের একটি মিষ্টি সম্পর্ক সহজেই চোখে পড়ে। এতে বোঝাই যায় এই মা-মেয়ে সারাদিন কত মিষ্টি-মধুর সময় পার করেন।