মেইন ম্যেনু

মা হারা ৬ মাসের শিশুর কান্না থামছে না

শারীরিক নির্যাতন শেষে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার ঘটনায় রেহেনা আক্তারের ৬মাসের শিশু ফাহি মনি কান্নায় ভারী হয়ে আসছে নিহতের বাবার বাড়ি চারপাশ। ২৪ আগষ্ট বুধবার বিকাল ৫টায় সরজমিনে গিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বাতেন টিলায় দেখা যায় এমন পরিবেশ। নিহতের বাবা নুর হোসেন ও মা সাজেদা বেগম দাবি করেন গত ১৯ আগষ্ট শুক্রবার বেলা ৫টায় মেয়ে রেহেনা বেগমকে নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে মেরেছে পাসন্ড স্বামী গিয়াস উদ্দিন, শুশুর আবুল কাসেম, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম টুনি ও দেবর মহিউদ্দিন।

রেহেনা বেগমের মা সাজেদা বেগম বলেন, ঘটনার দিন বিকাল ৫টায় আমি বাড়ির পাশে জমিনে ধানের চারা তুলছিলাম। সে সময় আমার মেয়ে রেহেনা দৌড়ে এসে আমাকে বলে তাকে তার স্বামী, শুশুর, শাশুড়ি ও দেবর মিলে প্রচন্ড মারধর করে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছে। ২দিন যাবৎ সে না খেয়ে আছে। একথা বলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলে, পাশেই তার শুশুর বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে লবন পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করি। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে গেলে জামাই গিয়াস ও তার বাবা কাসেম তাদের বাড়িতে উঠতে আমাদের বাধা দেয় এবং লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে। হট্টগোল শুনে অনেক মানুষ আসলে পরে আর বাধা দেয়নি। ৫দিন যাবৎ রেহেনার ৬ মাসের শিশুটি অনবরত কান্না করছে।

মেয়ের বাবা নুর হোসেন বলেন, আমি বাড়ি থেকে প্রায় ৫শত গজ দূরে অন্য মানুষের জমিনে ধান লাগাচ্ছিলাম। আসরের আজানের ৫মিনিট আগে আমার ছোট ছেলে ইফতার হোসেন(১৩) দৌড়ে এসে আমাকে জানায়, তার বোন রেহেনাকে তার শুশুর বাড়ির লোকজন মেরে জোর করে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। আমি দ্রুত ছুটে যায় এবং কয়েকজন মিলে কাঁদে ভাড় করে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা হেটে বমুর কুল থেকে মাহিন্দ্র করে লামা হাসপাতালে নিয়ে আসি। গাড়িতে আমার কোলে থাকার সময় মেয়ে বলে, তার স্বামী গিয়াস সহ শুশুর বাড়ির লোকজন তাকে প্রচন্ড মারধর করেছে এবং জমিনের জন্য আনা বিষের সম্পূর্ণ বোতলটি তাকে তার স্বামী, শুশুর, শাশুড়ি ও দেবর মিলে খাইয়ে দেয়। পাসন্ড জামাই ও তার বাবা আবুল কাসেমকে নানান কানপড়া ও টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে লামা বাজারের টিন ব্যবসায়ী আব্দুল গনি মেম্বার এর ছেলে মো. মিজানুল হক সহায়তা করেছে।

পার্শ্ববর্তী আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম(৪৫) বলেন, সব সময় মেয়েটিকে গিয়াস, কাসেম, ফাতেমা ও মহিউদ্দিনরা মারধর করত। মূলত সামাজের লোকজনের চাপে পড়ে বিয়ে করতে হওয়ায়, কখনও মেয়েটিকে তারা বউ বলে মেনে নেয়নি।

এলাকার মুরব্বি আব্দুল মোনাফ(৪৮) পিতা- নজির আহমদ জানান, এই ঘটনার পিছনে গ্রামের সর্দার সুলতান আহমদ(৬৫) পিতা- মৃত মোজার আহমদ রয়েছে। কারণ সুলতান আর রেহেনার চাচা আমির হোসেনের মধ্যে জমি নিয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। সুলতান ও গিয়াসের বাবা কাসেম সবসময় একসাথে চলে। সুলতান এলাকায় একজন সামাজিক ক্রিমিনাল হিসেবে পরিচিত। মানুষকে খারাপ বুদ্ধি দেয়া তার কাজ। তাছাড়া সুলতানের কয়েকজন ডাকাত প্রকৃতির বার্মাইয়া মেয়ের জামাই আছে। তাদের জোরে সে নানান অপকর্ম করে বেড়ায়।

এলাকার রহমত আলী(৪২) পিতা- মৃত ইসহাক বলেন, রেহেনা বেগম ও গিয়াস উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেম ছিল। প্রেমের সম্পর্ক থাকায় বিয়ের আগেই গর্ভে সন্তান আসে নিহত রেহেনার। গর্ভে সন্তান আসলে সামাজিকভাবে চাপ দিয়ে গিয়াসের অমতে জোর করে ৯মাস আগে উভয়ের বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসার কখনও শান্তির ছিলনা রেহেনার। বিয়ের ৩মাস পরেই তাদের সংসারে আসে একমাত্র সন্তান ফাহি মনি।

অভিযুক্ত গিয়াস এর বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। আশপাশের লোকজন জানায় ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে রেহেনার স্বামী, শুশুর, শাশুড়ি ও দেবর।

এলাকা পরিদর্শনকালে আশপাশের অর্ধশত নারী পুরুষ রেহেনা হত্যা ঘটনার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় জোর আবেদন করে প্রশাসনের কাছে।



« (পূর্বের সংবাদ)