মেইন ম্যেনু

মিউজিক ভিডিওর নামে অশ্লীলতা : দায় কার?

সম্পূর্ণ মিউজিক ভিডিও নির্ভর হয়ে পড়ছে দেশের অডিও জগৎ। দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিউজিক ভিডিও। নবীন থেকে শুরু করে প্রবীণ শিল্পীরাও এখন মিউজিক ভিডিও নির্ভর হয়ে উঠছেন। পরিচিত কয়েকটি কথামালার সংমিশ্রণে সুর দিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরিতে নেমে পড়ছে অনেকে। আর এ জনপ্রিয়তাকে পূঁজি করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে প্রোডাকশন হাউস। ভূঁইফুঁড় চিত্র নির্মাতারও অভাব নেই দেশে এখন। বেশি কিছু না একটি মাত্র ক্যামেরা থাকলেই হয়ে যায় নির্মাতা। আবার অনেকে সাধারণ ক্যামেরা ভাড়া নিয়েও তৈরি করছে মিউজিক ভিডিওসহ নানান অনুষ্ঠান। আর ছোট্ট একটা রুমের পূঁজিকেই অনেকেই মনে করছে প্রোডাকশন হাউস। আবার রাস্তায় ভবঘুরে নির্মাতারও অভাব নেই এখন! এদিকে সহজলভ্য এ মিউজিক ভিডিও তৈরির নামে দেহব্যবসা চলছে চট্টগ্রামসহ প্রায় সারাদেশেই।

উঠতি বয়সের মডেলরা বাড়তি রোজগারের আশায় ধনীর দুলালদের শয্যা সঙ্গী হচ্ছে। আর এসব দালালী করে রাতারাতি বিত্তশালী বনে যাচ্ছে অখ্যাত মিউজিক ভিডিওর নির্মাতারা। কতিথ নির্মাতার ভিড়ে আজকাল খুব সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মিডিয়া পাড়া। ফেসবুকে খুললেই দেখা যাবে বহু মিডিয়া কর্মী। চিত্রনাট্যকার, নায়ক/নায়িকা/মডেল/উপস্থাপক/গায়ক/গায়িকা থেকে শুরু করে পূণ্য দৈর্ঘ্য ছবি ও টেলিফ্লিম নির্মাতা কোনটারই অভাব নেই এখন। ভুঁইফুড় হয়ে উঠছে মিউজিক ভিডিও বাণিজ্য। একটা মিউজিক ভিডিও তৈরি করতে এখন তেমন কিছু প্রয়োজনও হচ্ছে না। প্রয়োজন নেই কোন স্ক্রিপ্টের। একটা বা দুটো সাধারণ ক্যামেরা আর কিছু কসটিউম থাকলেই সে হয়ে উঠছে অনেক বড় নির্মাতা। আবার ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজনীয় পোষাক থেকে শুরু করে সবকিছুই নিয়ে আসতে মডলেদের নির্দেশ দিয়ে থাকে এসব নির্মাতারা। এদের প্রথম টার্গেট বা পূঁজি উঠতি বয়সের সহজ সরল সুন্দরী তরুণী। দুএকজন হাতে পেলেই শুরু হয় তাদের বাণিজ্য। এদের বিপরীত চরিত্রে অভিনয়ের নাম করে উঠতি বয়সের বিত্তশালী তরুণদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করেই তৈরি করা হয় একটি গানের মিউজিক ভিডিও। বিনিময়ে বিত্তশালী তরুণদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সূত্রে জানা গেছে, মিউজিক ভিডিও তৈরির কথা বলে কথিত নির্মাতারা উঠতি মডেল কন্যাদের নিয়ে অবস্থান নেয় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও পর্যটন এলাকা সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্নস্থানে। সেখানে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নির্মাতাদের পছন্দের পার্টনার বা ব্যবসায়িদের ঠিক করে রাখা হয় নির্ধারিত হোটেল মোটেলে। যারা টাকার বিনিময়ে মডেলদের সঙ্গে রাত কাটায়। টাকার বিনিময়ে বড়লোকের ছেলেদের সাথে এমন সব ভিডিও তৈরি করা হয় যা কখনো বাজারে ছাড়া হয় না। আসল উদ্যেশ্য থাকে উঠতি বয়সের তরুনীদের লোকলজ্জ্বা ভেঙ্গে দেহ ব্যবসার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা কামানো। ফলে দিনদিন আগ্রহ হারাচ্ছে ভাল মডেল বা নির্মাতারা। দুর্নাম কুড়াচ্ছে মিডিয়া পাড়া। সহজলভ্যতা এবং অল্প সময়ে স্টার বুনে যাওয়ার স্বপ্নে বিবর হয়ে এসব অনভিজ্ঞ, কথিত নির্মাতার হাতে পড়ে নারীরা হারাচ্ছে তার সর্ব্বোচ্চ সম্মান। পুরুষরা হারাচ্ছে তার কষ্টার্জ্জিত অর্থ। এদিকে নোংরা মডেলদের এসব কর্মকান্ডে কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে স্বনামধন্য মডেলরা। তাদের দাবি, এসব কেলেংকারীর খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় আসার পর থেকে পারিবারিকভাবে এ পথ ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দুর্নামের ভয়ে অনেক ভাল মডেল চলে যাচ্ছেন অন্তরালে।

কোন চিত্রনাট্য বা মিউজিক ভিডিও’র মডেল হতে গেলে পরিচালক, প্রযোজকদের কাছ থেকে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ গড়ার প্রস্তাব আসার অভিযোগও রয়েছে অহরহ। প্রশ্ন থাকে স্টার হওয়ার আশায় সহজ সরল তরুণীরা তার সর্ব্বোচ্চ সম্মান হারানোর পরেও কি স্টার হতে পারছে? না পারছে না! বিশেষ সম্পর্ক স্থাপনের কারণে লোকলজ্জা ও সম্মান হারানোর ভয়ে দিনদিন পরিচালক/নির্মাতার নামের সেই জানোয়াড়দের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে সহজ সরল তরুণীরা। মিউজিক ভিডিও তৈরির নাম করে কতিথ নির্মাতারা বড় লোক ছেলেদের কাছ থেকেও বিভিন্ন প্রলোভনে আদায় করে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। সামাজিক এ ব্যাধির কারণে তরুণরা হচ্ছে সর্বশান্ত। আদৌ কি এর কোন যুক্তিকথা আছে? এ জগৎ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এক তরুণী ক্ষোভের সাথে বলেন, সত্যি কি মিডিয়া জগতটা খুব নোংরা হয়ে গেছে? আমরা যাদের কে বলি মডেল, তাঁরা আমাদের সমাজের কাছে মডেল হিসবেই থাকবেন বলেই আমরা সে আশাই করছি।

নায়িকা/মডেল বা উপস্থাপিকা হওয়ার স্বপ্নে বিবর হয়ে নিজের সর্ব্বোচ্চ সম্মান হারানো সহজ সরল বোনদের এবং অর্থলোভী/নারীলোভী/ অনবিজ্ঞ চিত্রনির্মাতার হাতে পড়ে সর্বশান্ত হওয়া হতভাগ্য ভাইদের অনুরোধ করছি, সৎ সাহস নিয়ে নির্মাতা নামের এসব কথিত জানোয়ারদের মুখোশ খুলে দিন। আবার সহজলব্য মিয়িার পেছনে অর্থ লোভী কিছু নারীর কুরুচিপূর্ণ লালসা আছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করা স্বর্ত্তে স্বণামধন্য এক নির্মাতা জানান, কোন ভাবে নাম সর্বস্ব গান বা অখ্যাত নির্মাতার মাধ্যমে মিউজিক ভিডিও তৈরি করে পর্দায় চেহারাটা দেখাতে পারলেই উঠতি বয়সের মডেলরা বাড়তি রোজগারের আশায় ধনীর দুলালদের শয্যা সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। অল্প সময় ব্যয় করে একটি অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রোডাকশন হাউজগুলো। কিন্তু দুঃখজনক কথা হলো এসব প্রোডাকশন হাউজ যেনতেন প্রকারে গড়ে উঠেছে, নিজেদের কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। কোনো প্রকার নাটক,অনুষ্ঠান বা মিউজিক ভিডিও তৈরি করে অর্থ উপার্জন বা উঠতি বয়সের তরুণীদের নিয়ে দেহ ব্যবসা করানোই প্রধান লক্ষ্য তাদের। আমাদের দেশে এ বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

somewhereinblog থেকে নেওয়া