মেইন ম্যেনু

মিঠাপুকুরে কাফ্রিখাল ইউপি চেয়ারম্যানের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুরে কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজের বিরুদ্ধে প্রকল্প নয়-ছয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাছ কেটে নেওয়া, প্রকল্পের কাজ না করার অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হক।

অভিযোগে জানা যায়, আলীপুর গ্রামের ২ কিলোমিটার রাস্তায় ইউক্লিপ্টাস গাছ ২০১১ সালে রোপন করে স্থানীয় একটি সংগঠন। কিন্তু, চলতি বছরের মার্চ মাসের ওই রাস্তার প্রায় সাড়ে ৪শ গাছ কেটে নিয়ে যান চেয়ারম্যানের লোকজন। একই গ্রামের আরেক রাস্তার ২শ ৫০ টি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে স্থানীয় আরেকটি সংগঠনের কাছ হতে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন তিনি। ওই সংগঠনের সভাপতি আফছার আলী বলেন, গাছগুলো বিক্রির জন্য চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও, বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। সেগুলো হল- ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জলমহাল প্রকল্পে কাফ্রিখাল বিলের পাড় সংস্কার বাবদ ১লাখ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে গোটা ইউনিয়নে আরসিসি রিং পাইপ স্থাপন বাবদ ১ লাখ, ২০১১-১২ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রিংস্লাব বিতরণ বাবদ ২ লাখ ২৬ হাজার ৯শ ১৩ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে মুরাদ দর্প নারায়নপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠের বেঞ্চ তৈরী বাবদ ৪০ হাজার ২ শ ২৬ টাকা, কাফ্রিখাল গ্রামের রাস্তার সংস্কারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দের বিশেষ কাবিখার বাবদ ৬ মেট্রিক টন চাল, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের গোটা ইউনিয়নে সুপেয় পানির জন্য নলকুপ স্থাপন ও গোড়া পাকাকরণ বাবদ ১লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বুজরুক তাজপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ তৈরী বাবদ ৭৬ হাজার ৫শ ৬ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রিংস্লাব বিতরন ৪০ হাজার ৪শ ৩৭ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বুজরুক তাজপুর জামে মসজিদে পাকা ল্যাট্রিন নির্মান বাবদ ৩৫ হাজার টাকা, মুরাদ দর্প নারায়রপুর পূর্ব জামে মসজিদে পাকা ল্যাট্রিন নির্মান বাবাদ ৫০ হাজার টাকা, গোটা ইউনিয়নে নলকুপ স্থাপন ও গোড়া পাকাকরণ বাবদ ৪৪ হাজার ৯শ টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ইলেট্রিক্যাল ওয়্যারিং বাবদ নামমাত্র কাজ করে ৯০ হাজার ১শ ২৭ টাকা, এলজিএসপি-২ এর টাকায় ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে আইপিএস ক্রয় বাবদ ১লাখ ১০ হাজার, পিবিজির টাকায় খোর্দ্দ নারায়নপুর গ্রামে আংশিক প্যারাসাইড নির্মাণ বাবদ ২লাখ ৪৩ হাজার, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে মুরাদ দর্প নারায়রপুর নি¤ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭টি বেঞ্চ তৈরী বাবদ ১ লাখ, এনায়েতপুর সমজিদে ও কাফ্রিখাল বালুয়া কেজি স্কুলে পাকা লেট্রিনের আংশিক কাজ করে ১ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পে খোর্দ্দ কাশিনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি বেঞ্চ তৈরী করে ৬০ হাজার টাকা।

এনায়েতপুর মসজিদের সদস্য আখতারুজ্জামান রতন বলেন, চেয়ারম্যান একদিন সমজিদে এসে ৫ হাজার টাকা আমাদের হাতে দিয়ে বলল- লেট্রিন মেরামত করেন। কিন্তু, সেখানে যে প্রকল্প দেখানো হয়েছে আমরা তা জানিনা। কাফ্রিখাল বালুয়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে কয়েকটি রিংস্লাব বসানো হয়েছে। আর কোন কাজ হয়নি। খোর্দ কাশিনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি তৈয়ব আলী বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দে মাত্র ১০ জোড়া ছোট ছোট বেঞ্চ পেয়েছি।

এছাড়াও, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ননওয়েজের টাকায় মুরাদ দর্প নারায়নপুর জয়দুল মাষ্টারের বাড়ীর সামনে ৫২ হাজার টাকা দিয়ে ইউড্রেন নির্মাণ করা হয়। আবারও একই অর্থবছরে ওই স্থানে আরেকটি প্রকল্প দেখিয়ে ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইউড্রেন নির্মাণ দেখিয়ে আত্মসাত করেন চেয়ারম্যান হাফিজ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ওয়েজ কষ্টের (প্রথম পর্যায়) টাকায় খামার কুর্শা মহুবারের দোকান থেকে বুজরুক তাজপুর আব্বাস আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ভরাট করা হয়। অথচ, ওই স্থানে একই অর্থ বছরে ১৪ দশমিক ৭৮৬ মেট্রিক টন চালের শতকরা ৫০ ভাগ দিয়ে আবারও রাস্তা ভরাট করার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। বাকী ৫০ ভাগ চাল দিয়ে ৩টি মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন করার কথা।

কিন্তু, সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কাফ্রিখাল আজগর প্রফেসরের বাড়ির সামনের সমজিদে আগেই একটি সোলার প্যানেল স্থাপন করা ছিল। কিন্তু, ওই সমজিদেই সোলার প্যানেল স্থাপন দেখান চেয়ারম্যান। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের কাবিখা প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ নেন। বরাদ্দের ৫০ ভাগ চাল দিয়ে বুজরুক তাজপুর মশিয়ার মাওলানার বাড়ি হতে আশরাফপুর মৌজার ইয়ারুর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করার কথা।

কিন্তু, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচীর শ্রমিক দিয়ে তিনি এই কাজ করিয়েছেন। বাকি ৫০ ভাগ বরাদ্দ দিয়ে ৩টি সমজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনে স্টিমেট থাকলেও চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান একটি মসজিদেও স্থাপন করেননি। অভিযুক্ত চেয়ারম্যার হাফিজার রহমান হাফিজ বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, কাফ্রিখাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবেনা।



« (পূর্বের সংবাদ)