মেইন ম্যেনু

মিঠাপুকুরে গাছ কেটে নেওয়ায় মামলা এখনও জ্যান্ত দাঁড়িয়ে আছে কেটে নেওয়া গাছগুলো!

রংপুরের মিঠাপুকুরে ৪টি ইউক্লিপটাস গাছ কেটে নেওয়ার মামলার গাছগুলো এখনও জ্যান্ত রয়েছে। মামলায় বাইসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা উল্লেখ করা সাইকেলটিও দিব্বি বয়ে বেড়াচ্ছেন বাদীর ছেলে। সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক মিঠাপুকুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীনুর আলম আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন উল্টোটা। পুলিশের এমন দায়িত্বশীলতায় এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভের।

উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের গারালচৌকি গ্রামের আতিয়ার রহমান নামে একজন চলতি বছরের ২১ শে মার্চ ৪টি ইউক্লিপটাস গাছ কেটে নেওয়া ও বাইসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলা রংপুরের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রট আমলী আদালতে অভিযোগ করেন। যার সি.আর নম্বর-১৬৮/১৫, মিস পিটিশন নম্বর-৫০/১৫। অভিযোগে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগটি মিঠাপুকুর থানায় তদন্তের জন্য পাঠান আদালত। তদন্তের দায়িত্ব পান মিঠাপুকুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর আলম।

তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে চলতি বছরের ১০ আগষ্ট আদালতে রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাদী আতিয়ার রহমানের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা ৪টি ইউক্লিপটাস গাছ বিবাদীরা কেটে নিয়ে গেছে। এছাড়াও, বাদীকে আক্রমন করে একটি বাই সাইকেল ছিনতাই ও শ্যালো মেশিন ঘরটি ভাংচুর করেন বিবাদীগন। এ ঘটনায় সবমিলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গারালচৌকি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, যে গাছগুলো কেটে নেওয়া অভিযোগ করা হয়েছিল সেগুলো এখনও রয়েছে জ্যান্ত। ছিনতাই হওয়া বাইসাইকেলটি চড়ে বেড়াচ্ছেন বাদীর ছেলে। আর শ্যালোমেশিন ঘরটিও রয়েছে অক্ষত অবস্থায়। পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ভুমিকায় এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভের।

গারালচৌকি গ্রামের বাদশা মিয়া (৮০) বলেন, অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোই মিথ্যা। এখনও গাছগুলো মাটিতে দাড়িয়ে রয়েছে। বানু মিয়া (৭৫) বলেন, আতিয়ার রহমান এলাকার অনেক মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছেন।

এখনও তিনি তা অব্যাহত রেখেছেন। আইয়ুব আলী (৬০) বলেন, অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলো মিথ্যা। বাস্তব পরিস্থিতি না দেখেই আদালতের রিপোর্ট দিয়েছেন পুলিশ। বিবাদি আব্দুল হাই বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করেও অজ্ঞাত কারণে আদালতে অসত্য রিপোর্ট প্রদান করেছে।

মিঠাপুকুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীনুর আলম বলেন, আমি ঘটনার স্বাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিনে তদন্ত করেই রিপোর্ট দাখিল করেছি। যা সত্য তাই উল্লেখ করেছি। মিঠাপুকুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।