মেইন ম্যেনু

মিঠাপুকুরে ধনুষ্ঠংকারে আক্রান্ত হয়ে দিনমজুরের মৃত্যু ॥ গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

মো: শামীম আখতার, উপজেলা প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর): রংপুরের মিঠাপুকুরে ধনুষ্ঠংকার রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোকলেছুর রহমান (৫৫) নামে এক দিনমজুরের মৃতু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছেন। ইতোমধ্যে ধনুষ্ঠংকারের টিকা দিয়েছেন গ্রামের প্রায় ৩০ জন মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাণীপুকুর পূর্বপাড়া গ্রামে।

রাণীপুকুর গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মোকলেছুর রহমান মঙ্গলবার হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। জয়নাল আবেদীন, দেলোয়ার হোসেন, রেজাউল ইসলাম, সাহেব আলী ও মহুয়া বেগম তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো জন্য নিয়ে যান। হাসপাতালের কতব্যরত চিকিৎসক তাকে মেডিকেলে ভর্তি করান এবং রোগীকে বহনকারী ৫ ব্যক্তিকে টিকা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে মোকলেছুর রহমান রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান। মোকলেছুর রহমানের ছেলে রেজাউল ইসলাম বলেন, সেখানে বাবাকে ভর্তি করানোর পরে ডাক্তার বলেন- আপনাদেরকেও টিকা দিতে হবে। নইলে রোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আমরা টিকা দিয়েছি। স্থানীয় সরোয়ার আলম সোহেল বলেন, ধনুষ্ঠংকার রোগের আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়। অনেকের ধারনা- রোগটি মারাত্মক ও ছোয়াছে। তাই, অনেক মানুষই টিকা দিয়েছেন। মোকলেছুর রহমানের ভাতিজা জয়নাল ও দোলোয়ার হোসেন বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে চাচা ধানের চারা রোপন করতে গিয়ে মরে যাওয়া কুকুরের হাড় দিয়ে তাঁর পা কেটে যায়। তিনি স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা গ্রহন করেন। কয়েকদিন পরে তিনি গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২ দিন পরে তিনি সেখানে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর এলাকায় ধনুষ্ঠংকার রোগের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার মজুন মিয়া, এমদাদুল হক, খাদিজা বেগম, আসরেফা বেগম, মন্টু মিয়া, নবিওন বেগমসহ প্রায় ৩০ জন ধুনষ্ঠংকার রোগের টিকা দিয়েছেন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাণীপুকুর পূর্বপাড়া গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই আতঙ্কগ্রস্থ্য। তারা মোকলেছুর রহমানের লাশ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। অনেকে ধনুষ্ঠংকার ছড়ানোর ভয়ে মোকলেছুর রহমানের লাশ দেখতে যেতে চাচ্ছে না।

মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হন্দ্রেনাথ গোস্বামী বলেন, ধনুষ্ঠংকার ছোয়াছে রোগ না। তাই, এলাকাবাসির আতঙ্ক হওয়ার কিছুই নেই।