মেইন ম্যেনু

অভিভাবকদের ক্ষোভ

মিঠাপুকুরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়

আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি। প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালগুলোতে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি গ্রহনের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

উপজেলার ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ সোমবার সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় সুত্র থেকে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে ৩শ ৭৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের কাছ হতে ১শ ৫০ টাকা, সপ্তম শ্রেণীর ১শ ৬০ টাকা, অষ্টম শ্রেণীর ১শ ৭০ টাকা, নবম শ্রেণীর ১শ ৮০ টাকা ও দশম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১শ ৯০ টাকা করে গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, সেশন ফি, উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, খেলাধুলা, পুরস্কার, পাঠাগার, লাইব্রেরী, স্কাউট ফি বাবদ গুনতে হচ্ছে আরও ৪শ থেকে ৫শ টাকা। এর ফলে অনেক গরীব শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, নবম শ্রেণির পলাশ, অস্টম শ্রেণির রায়হান, সপ্তম শ্রেণির জুলফিকারসহ অনেকে অভিযোগ করে বলে, পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য ফি সহ সব টাকা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্যারেরা। প্রবেশপত্র না নিয়ে পরীক্ষার হলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও জানায় তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়মিত ক্লাশ হয়না। অভিভাবক গোলাম মোস্তফা ও কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ভালভাবে পাঠদান করান না। বাচ্চাদের কোচিং মুখী করতে উৎসাহিত করছেন শিক্ষকরাই। তাঁরা পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ দিয়ে থাকেন।

ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকিন মিয়া বলেন, আমার বিদ্যালয়ের কোন আয় নেই। তাই, পরীক্ষার ফি একটু বেশি করে নিয়ে অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হয়। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহবুবার রহমান মঞ্জুর সাথে একাধীকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার ফি সরকারীভাবে নির্ধারন করা হয়নি। তবে, অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ১শ ৯০ টাকা পরীক্ষার ফি আসলেই মফস্বল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার। অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হবে।