মেইন ম্যেনু

মিতু হত্যা: তিনমাসেও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি পুলিশ

সদ্য অব্যাহতি পাওয়া এসপি বাবুল আক্তার আছেন শ্বশুর বাড়িতেই আছেন। গত ৫ জুন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর থেকেই তিনি দুই শিশু সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে রয়েছেন। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বাবুল আক্তার তার বাসাতেই আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘মিতু হত্যার তিন মাস পার হয়েছে। অথচ তদন্তে সংশ্লিষ্ট কোনও পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।’খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

অব্যাহতি দেওয়ায় বাবুল আক্তার কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটি বাবুল আক্তারের বিষয়। এ বিষয়ে বাবুল আক্তারের সঙ্গে তার কোনও কথা হয়নি। তবে তার আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাবুল চাকরি ফিরে পেতে আবেদন করেছিল। সে বলেছে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এরপরও কিভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না।’

মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের জড়িত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার আমার মেয়ে মিতু হত্যায় জড়িত আছে বলে আমি মনে করি না। আর মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি। পত্রপত্রিকায় ও সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, সেটুকুই জানি।’

সিএমপির পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বুধবার বলেছেন, ‘মিতু হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত এমন কোনও তথ্য এখন পর্যন্ত পুলিশের হাতে নেই। তবে তদন্তের কোনও জায়গায় যদি তথ্য-প্রমাণ কখনও পাওয়া যায় যে, তার কোনও সংশ্লিষ্টতা আছে, তখন সেই তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো আছেই। আর এ মুহূর্তে তাকে গ্রেফতারের কোনও কারণও নেই।’

গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণাল থেকে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাবুল আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদানকৃত মো. বাবুল আক্তার (বিপি-৭৫০৫১০৯০২৯), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সিএমপি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত) কে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি (পুলিশ ক্যাডার) হতে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’ অব্যাহতি পাওয়ার পরও বাবুল আক্তার গণমাধ্যমের সঙ্গে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি।