মেইন ম্যেনু

মিনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬৯

পবিত্র নগরী মক্কার অদূরে মিনায় বৃহস্পতিবার শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭শ ৬৯য়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৯শ ৩৪ জন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আল ফালিহ এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার হজযাত্রীরা হজের অন্যতম আনুষ্ঠানিকতা জামারাহ অর্থাৎ শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করার জন্য মিনায় জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু জামারাহ শুরু হওয়ার আগেই মিনার ২০৪নং সড়কে এই মর্মান্তিক পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

ওই দুর্ঘটনার পর সৌদি সরকারের দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা ওই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিপক্ষ দেশ ইরানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কে অস্থিরতা ও সমালোচনা স্বত্তেও তা গায়ে মাখছে না সৌদি আরব। উল্টো দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় গুরু শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ এ জন্য হাজিদের ভাগ্যকেই দুষছেন। এমনকি পদদলিত হয়ে হাজিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন নায়েফের কোন দোষ নেই বলেও জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন এবং জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে ১ লাখ পুলিশ নিয়োগ করেছেন। কিন্তু হাজীরা ওই দুর্ঘটনার জন্য পুলিশ এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত নাইজেরিয়ার নাগরিক আব্বাস তিজানি বলেন, ‘সবাই রণকৌশলের চেষ্টা করছিল আর পুলিশ বলছিল ফিরে যাও ‍ফিরে যাও।’ তিনি আরো জানান, ‘প্রত্যেকেই বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু একজন আর একজনের ওপর পড়ে যাচ্ছিলেন। এত মানুষের চাপে অনেকে তাল সামলাতে পারছিলেন না।’

সৌদি কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে দাবী করছে ইরান। ১৩১ নাগরিকের মৃত্যুতে ইরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হজের মতো এত বড় আয়োজন সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা সৌদি আরবের নেই।

দেশটির এটর্নি জেনারেল ইবরাহিম রাইসি জানিয়েছেন, ‘এটি শুধু অযোগ্যতাই নয় বরং একটি অপরাধ।’ এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত আমরা যথেষ্ট সহযোগীতার দেখা পাই নি।’

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সামর্থ্য থাকলে জীবনে অন্তত একবার হজ পালনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। আর এ কারনেই প্রতিবছর ধর্মপ্রাণ লাখ লাখ মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় সমবেত হন।