মেইন ম্যেনু

মিরপুরে বাসার ভেতর তরুণীকে গলা কেটে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে এক কলেজছাত্রীর গলাকাটা লাশ ‍উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মিরপুর ২ নম্বর এলাকার রাইনখোলার একটি পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে মিরপুর থানার এসআই আবদুস সালাম জানান।

নিহত আমেনা খাতুন রেশমা (২০) বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন পরিচালিত মিরপুরের ‘বিসিআইসি কলেজের’ শিক্ষার্থী।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, “তরুণীর লাশটি গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।”

নিহতের বাবা মো. আলমগীর মতিঝিলের বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

তার তিন স্ত্রীর মধ্যে দ্বিতীয় মরিয়ম বেগমের একমাত্র সন্তান রেশমা। স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন মরিয়ম।

তিনি বলেন, সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে মিরপুর ২ নম্বরে একটি কাজে যান তিনি।

বাসা থেকে বেরোনোর সময় রেশমা ফ্ল্যাটের দক্ষিণ পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আর তার বাবা আলমগীর উত্তর দিকের কক্ষে ছিলেন।

“যাওয়ার সময় উনাকে বলে যাই, অফিসে যাওয়ার সময় দরজা ঠিক মত বন্ধ করে যেও। আমাদের তিনজনের কাছে তিনটি চাবি থাকায় যে যখন বের হই তখনই বন্ধ করে যাই।”

দরজার লকটি ভেতর ও বাইরে থেকে বন্ধ করা যায় বলে জানান তিনি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফিরে রেশমাকে তার কক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান তার মা মরিয়ম।

এ সময় তার বাবা আলমগীর বাসায় ছিলেন না। দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

তিনি বলেন, স্ত্রী মরিয়ম বেরোনোর আধা ঘণ্টাখানেকের মাথায় তিনি বাসা থেকে বের হন। সে সময়ও রেশমা ঘুমে ছিলেন।

তবে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে ঘর তালাবন্ধ করেছিলেন কি না তা তার মনে নেই বলে জানান আলমগীর।

মরিয়ম বলেন, “ঘরে আলমারির জিনিসপত্র এলোমেলো। সেখানে প্রায় সাড়ে সাত ভরি সোনার গহনা ও কিছু টাকা ছিল। কিন্তু তা আলমারিতে নেই।”

ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা মো. মাসুদ জানান, পরিবার নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন আলমগীর।

মরিয়ম বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে ওই ফ্ল্যাটটি কেনেন বলে জানান মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, “আলমগীরের তিন স্ত্রীর মধ্যে মরিয়ম দ্বিতীয়। মরিয়মেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে।

“আলমগীরের প্রথম স্ত্রী মিরপুর বিসিআইসি স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। সেই ঘরে রবিন ও রাকিব নাম দুই সন্তান রয়েছে। তৃতীয় স্ত্রী থাকেন ঝালকাঠি। সেই ঘরে ছোট দুই বাচ্চা রয়েছে।”

মরিয়ম তার ওই ফ্ল্যাটটি মেয়ে রেশমার নামে দলিল করে দিতে চেয়েছিলেন বলে জানান ওসি।

এই ফ্ল্যাট নিয়ে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মিলন জানান, তিনি সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাদের ‘রূপসী ডেভেলপার’ কোম্পানির অন্য সাইটে যান। সে সময় ওই ভবনে তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

ওই ভবনের পশ্চিম পাশের বহুতল ভবনের বাসিন্দা নার্গিস বেগম বলেন, সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলা থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুনতে পান তারা।

“প্রায়ই মরিয়ম ও আলমগীর ঝগড়া করতো। তাই ভেবেছি, তারা দুজন হয়তো ঝগড়া করছেন। তবে রেশমা কখনও ঝগড়া করতেন না।”

ওসি বলেন, “বাঁচাও বাঁচাও বলে রেশমা বাসার দক্ষিণ দিকের বারান্দায় যান এবং লাল রঙের গামছা দিয়ে তাকে টেনে ভেতরে আনার দৃশ্য একটি ছোট মেয়ে দেখেছে।

“ওই সময় বাসায় একজন নারী ও একজন পুরুষকে দেখেছে বলে সে জানিয়েছে।”

“পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”