মেইন ম্যেনু

মির্জা আব্বাসের শুনানি ৩১ মার্চ

সাংবাদিকদের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ)।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। এর আগেও গত ১৩ ও ২০ মার্চ বিএনপির এ নেতার জামিন স্থগিতের মেয়াদ এক সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছিলো।

আজ আদালতে আব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এর আগে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত মির্জা আব্বাসকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন এক সপ্তাহ স্থগিত করেছিল। সোমবার দুদকের ওই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘হাইকোর্ট মির্জা আব্বাসকে এই মামলায় স্থায়ী জামিন দিয়েছেন। জামিন সংক্রান্ত হাইকোর্টের ওই রায় এখনো প্রকাশ পায়নি। রায় প্রকাশ পেলে কী পর্যবেক্ষণ দিয়ে তাকে জামিন দেয়া হয়েছে তা জানা যাবে।’ এরপর আপিল বিভাগ ওই জামিন আদেশের ওপর দেয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ ১ সপ্তাহ বৃদ্ধি করে।

বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ এ মামলায় মির্জা আব্বাসকে স্থায়ী জামিন দেন।

এ দিকে মির্জা আব্বাসের আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন জামিন স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একই কথা বলেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার গত ১০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) শুনানির জন্য এটি আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর রোববার নির্ধারিত দিনে এ বিষয়ে শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আব্বাসের জামিন স্থগিতের মেয়াদ এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করে।

এর আগে সাংবাদিকদের প্লট বরাদ্দের অভিযোগে শাহবাগ থানায় দুদুকের দায়ের করা এ মামলায় গত ৯ মার্চ বুধবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বিএনপির এ সিনিয়র নেতা।

দুদকের এ মামলাসহ মোট তিন মামলায় জামিন পাওয়ায় কারামুক্তিতে বাধা ছিলো না আব্বাসের। কিন্তু হাইকোর্টের দেয়া জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করায় তার কারমুক্তি আটকে যায়।

এর আগে বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৯ মার্চ বুধবার তাকে জামিন দেন।

বর্তমানে বিএনপির এ নেতা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘মির্জা আব্বাস মন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্লট বরাদ্দের বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ২০১৪ সালে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।’

ওই মামলায় জামিন চাইতে গিয়ে গত ৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আব্বাস। শুনানি করে বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন করেছিলেন আব্বাস।