মেইন ম্যেনু

মিষ্টি আলু: শক্তিশালি খাদ্যের চেয়েও বেশি কিছু!

“এক্স-মেন: অ্যাপোক্যালিপস” তারকা অলিভিয়া মুন সম্প্রতি সামাজিক গণমাধ্যমে কীসে তার চেহারার আমূল পরিবর্ত ঘটেছে তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন একটি ভাজা জাপানি আলু খেয়ে তিনি তার ত্বককে এমন তারুণ্যদীপ্ত করেছেন।

প্রাকৃতিক উৎপত্তিগতভাবে আমেরিকার দুই মহাদেশের দেশগুলোতে জন্মাত মিষ্টি আলু। আর প্রায় ৮ হাজার বছর আগে মানুষেরা এই আলুর চাষাবাদ শুরু করে।

আঁশজাতীয় খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ মিষ্টি আলু ভারতর্ষজুড়ে উপোসকালীন খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হত। এই আলু খেয়ে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা যায়।

আর এই কারণেই ওজন কমানোর জন্য চিকিৎসকরা এই খাদ্যটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এই খাদ্যটি মিষ্টি হলেও প্রচুর পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ। আর মিষ্টি হলেও এটি রক্তে সুগারের মাত্রা না বাড়িয়ে বরং তা কমিয়ে রাখে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভুমিকা পালন করে। উচ্চ আঁশজাতীয় খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।

কার্যকারিতা

চোখের জন্য ভালো

আফ্রিকার শিশুদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন এ-র চাহিদার ৩৫ থেকে ৯০ শতাংশই মিষ্টি আলুতে পুরণ হয়।

বুড়িয়ে যাওয়া এবং ক্যান্সাররোধী

মিষ্টি আলুতে যে ক্যারোটিন রয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যান্সাররোধী উপাদান সমৃদ্ধ। পরিপাক নালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় মিষ্টি আলু ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিপজ্জনক উপাদানগুলো শুষে নেয়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে ৩০ শতাংশ।

অবসাদ প্রতিরোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, এবং হৃদপিণ্ড সচল রাখে

ভিটামিন বি ৬ সমৃদ্ধ মিষ্টি আলু হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। মিষ্টি আলু ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ। যা ধমনী, রক্ত, হাড়, মাংসপেশি এবং স্নায়ুর তৎপরতা সচল রাখতে সহায়ক।
মিষ্টি আলুতে থাকা পটাশিয়াম হৃদকম্পন এবং স্নায়ুর সঙ্কেত সচল রাখতে, মাংসপেশির সংকোচন শিথিল করতে, স্ফীতি কমাতে এবং কিডনির প্রতিরক্ষা ও তৎপরতায় সহায়ক।

শক্তি সমৃদ্ধ

মিষ্টি আলুতে থাকা সুগার রক্তে ধীরগতিতে প্রবেশ করে দেহে শক্তি সঞ্চার করে। এ কারণে ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দেরকে এবং যারা রক্তের নিম্নচাপে আক্রান্ত তাদেরকে মিষ্টি আলু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি

মিষ্টি আলু খাওয়ার আগে রান্না করে নেওয়া ভালো। যাতে এতে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো সহজেই শুষে নেওয়া যায়।

সেদ্ধ মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে ও চটকিয়ে খেলে বিটা ক্যারোটিন (ভিটামিন অ্যা) সহজেই হজম হয়। এছাড়া সেদ্ধ করে খেলে রক্তে সুগারও কম মিশে।

ভাজা মিষ্টি আলু

৩-৪ গ্রাম ঘিতে ভেজে খেলে এর পুষ্টি উপাদানগুলো আরো সক্রিয় হয় এবং সহজেই হজমও হয়। তবে বেশি ভাজা যাবে না।
এছাড়া ৭-৮ মিনিট ধরে ভাপ দিয়ে বা রোস্ট করে খেলেও এর পুষ্টি উপাদান অক্ষত থাকে।
মিষ্টি আলু থেকে বিস্কিট বানিয়েও খাওয়া যায়।
তবে ডায়াবেটিস এবং কিডনি ও গলব্লাডারের সমস্যায় আক্রান্তরা মিষ্টি আলু এড়িয়ে চলাই ভালো।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া