মেইন ম্যেনু

মীর কাসেমের রিভিউ শুনানি কার্যতালিকায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যৃদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় এসেছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বুধবারের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য মীর কাসেমের রিভিউ আবেদনটি ৫ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। কার্যতালিকায় রিভিউ আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য মীর কাসেমের সময় আবেদনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে গত ২৫ জুলাই মীর কাসেমের রিভিউ আবেদন শুনানি পিছিয়ে ২৪ আগস্ট নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। আদালতে মীর কাসেমের পক্ষে সময় আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মীর কাসেম আলী। মোট ৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

গত ৬ জুন মীর কাসেমের ২৪৪ পৃষ্ঠার ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নিয়মানুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান রায়ের কপিতে স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ৬ জনকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে গত ৮ মার্চ মীর কাসেমের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের ৭ম রায় এটি।

আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধ মামলায় এর আগে ছয়টি রায়ের মধ্যে চারটিতে জামায়াতে ইসলামীর দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের রিভিউ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। অপরদিকে আপিল বিভাগের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীরও ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেমের আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।

২০১৪ সালের ০২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন।