মেইন ম্যেনু

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার সন্ধ্যায় মীর কাসেম আলীর ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি। এরপরই তার মৃত্যু পরয়োনা জারি করা হয়।

লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ট্রাইনালের কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যান। মৃত্যু পরোয়ানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। তবে মীর কাসেম আলী রিভিউ আবেদন করলে তার মৃত্যু পরোয়ানা স্থগিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এখন ১৫ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে মীর কাসেম আলীকে রিভিউ আবেদন করতে হবে।

সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মীর কাসেম্ আলীর রায়ের ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান রায়ের কপিতে স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশ করা হয়। ২৪৪ পৃষ্ঠার এ রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এরপর দুপুর সোয়া ৩টার সময় রায়ের কপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান।

এর আগে গত ৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের সপ্তম রায় এটি।

আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধ মামলায় এর আগে ছয়টি রায়ের মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শুনানি চলাকালে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযম ও বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেমের আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।

২০১৪ সালের ০২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে সাত বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।