মেইন ম্যেনু

মুক্তচিন্তার আরও মানুষ হত্যার শঙ্কা

‘নাস্তিকতার অজুহাতে’ মৌলবাদী জঙ্গিরা মুক্তচিন্তার আরও মানুষকে হত্যা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত।

গত শনিবার চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত আঞ্চলিক সেমিনারের দ্বিতীয় অধিবেশনে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৌলবাদী জঙ্গিবাদ-উদ্ভূত পরিকল্পিত বিপণ্নতার কিছু নতুন মাত্রা লক্ষণীয়। মৌলবাদী জঙ্গিত্বের পরিকল্পিত এসব মাত্রা অস্বীকার করলে আবারও ভুল হবে।

“এ জঙ্গিত্ব ইতোমধ্যে নাস্তিকতার অজুহাতে মুক্তবুদ্ধির-মুক্তচিন্তার অনেক মানুষকে হত্যা করেছে এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে আরও করবে।”

গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হন জাগৃতির কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন। গত বইমেলা চলাকালে উগ্রবাদীদের চাপাতির আঘাতে নিহত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক অভিজিৎ রায়ের জনপ্রিয় বই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ ছেপেছিলেন তিনি।

সেদিন ঘাতকের চাপাতির কোপে একটি আঙ্গুল হারান তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। আর ৩১ অক্টোবর জাগৃতির পাশাপাশি অভিজিতের বইয়ের আরেক প্রকাশনী শুদ্ধস্বর কার্যালয়েও হামলা হয়।

লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে ওই হামলায় প্রকাশনীর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসু গুরুতর আহত হন। এছাড়া গত কয়েক বছরে মুক্তচিন্তার লেখকদের ওপর আরও হামলা হয়েছে।

বারকাত বলেন, “মৌলবাদীরা গত ২৫ বছরে অনেক মানুষকে হত্যা করেছে। গোপন থেকে প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু মুক্তচিন্তার মানুষ।”

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের মৌলবাদ ও মৌলবাদী জঙ্গিত্বের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শিরোনামের প্রবন্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে মৌলবাদের অর্থনীতির শুরু থেকে রূপান্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা দেন এই অর্থনীতিবিদ।

বারকাত তার বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালের হিসাবে বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির বার্ষিক নিট মুনাফা আনুমানিক দুই হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।

“১৯৭৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের ক্রমপুঞ্জীভূত মুনাফা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা; যা আমাদের বাজেটের সমান। মৌলবাদী অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে ১১ শতাংশ। যেখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ শতাংশ।”

‘আল কায়দার ২০০২ সালের মহাপরিকল্পনা’ উদ্ধৃত করে বারকাত বলেন, আফগানিস্তান পুনর্দখল প্রক্রিয়ায় তারা এক ‘ভীতি বলয়’ সৃষ্টি করতে চায়।

“এই ভীতি বলয়ের অর্ন্তভুক্ত হবে ভারত, বার্মা এবং বাংলাদেশ। আমিও মনে করি, বাংলাদেশের আগামী ২০১৮ পর্যন্ত অন্যতম প্রধান সমস্যা হবে আরাকান ও রোহিঙ্গা রিফিউজি।”

বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিবাদ উত্থানের ‘চতুর্থ স্তরে’ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জিহাদের তৃতীয় পর্ব হলো ‘রিবাত’ (ছোট ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ) এবং চতুর্থ স্তর হলো ‘কিলাল’ (বড় মাপের সম্মুখ যুদ্ধ)।

“আমার বিশ্লেষণ বলে তারা সম্মুখ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। গত বছর তারা বাংলাদেশের ৪৬৭ গ্রামে ইজতেমা করেছে। এবার চার হাজার গ্রামে করবে। তাদের লক্ষ্য গ্রাম থেকে শহর দখল করা।”

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান। আলোচনা করেন অর্থনীতি সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী।