মেইন ম্যেনু

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বিতর্ক হবে তত সত্য বেরিয়ে আসবে

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বিতর্ক হবে তত সত্য বেরিয়ে আসবে। তখন আওয়ামী লীগের কার ভূমিকা কী ছিলো বের হয়ে আসবে। মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তাদের অনুশোচনা আছে। এ কারণেই তারা বিএনপি নেতাদের নামে মামলা দিচ্ছে।’

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন,‘তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বিচারপতি খায়রুল হকের বিচারবহির্ভূত হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে জনতার আদালতে বিচার হবে।’

রিজভী বলেন,‘যারা নিজের দলের শহীদদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে তাদের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারে, তারা ক্ষমতার ডাল থেকে পড়ে গেলেই রাজনৈতিক আবর্জনাতে পরিণত হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ইতিহাসে মীর জাফরেরা যে স্থানে, ইনুরা সেই স্থানেই থাকবে। দেশে গণতন্ত্রহত্যা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিধন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে মানুষের আদালতে তাদের বিচার হবে। ইনু ও বিচারপতি খায়রুল হকরা ওয়েটিং লিস্টে থাকবেন না, ফাইনাল লিস্টেই থাকবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে যে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি তা হাসানুল হক ইনুদের ৭২-৭৫ এর সহিংস কর্মকাণ্ড থেকেই শুরু হয়। লাদেনের আবির্ভাবের আগে জঙ্গিবাদের যে স্বরুপ দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী প্রথম দেখেছে তাহল-৭০ দশকের প্রথমার্ধে হাসানুল হক ইনুদের গণবাহিনীর সহিংস তাণ্ডব। থানা লুটসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা ও বিভৎস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আলকায়দা জেএমবির উত্থানের আগে ইনু সাহেবের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে এর রক্তাক্ত তাণ্ডবের প্রকোপ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে হাসানুল হক ইনুর আচরণ ছিল লাদেন-জাওয়াহেরী ও শায়খ আব্দুর রহমানদের সমতুল্য। এখন ইনু সাহেব তার নিহত কর্মীদের ঘাতকদের সঙ্গে ক্ষমতার ডালে বাদুড় ঝোলা হয়ে ঝুলতে গিয়ে শুধুমাত্র সেই সময়ের নিহত জাসদের কর্মীদের আত্মাকেই অপমান করেননি, সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রকেও গ্রাস করে নিতে এখনও প্ররোচকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, ‘একদলীয় রাজত্বেই গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা বিরোধী দল এবং নেতানেত্রী সর্ম্পকে দিনরাত অষ্টপ্রহর হুমকি আর কুশ্রাব্য কথা বলতে পারে। এর মধ্যে এগিয়ে আছেন ভোটারবিহীন সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার বক্তব্য, বিবৃতি পড়লে মনে হয় বিএনপি ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলতে পারার ওপর তার মন্ত্রিত্ব নির্ভর করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লা মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।