মেইন ম্যেনু

মুখই খুলছেন না সন্তানকে হত্যাকারী সেই মা

রাজধানীর উত্তরখানে দেড় বছরের শিশু নিহাল সাদিককে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শিশুটিরই মা মীর ফাহমিদা মুক্তিকে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রথম দফার তিনদিনের রিমান্ডে তিনি নিহাল হত্যার ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।

গতকাল সোমবার থেকে তাকে ফের দুইদিনের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা পাঁচ দিনের রিমান্ডে হত্যার ব্যাপারে মুখ খোলেননি মুক্তি। তবে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উত্তরখান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার রাতেই মুক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেননি। তবে অভিযাগের স্বপক্ষে জোড়ালে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক-কান, গলা বিভাগে চিকিৎসার পর মনোরোগ বিভাগেও মুক্তির চিকিৎসা দেয়া হয়। গত ২৯ এপ্রিল তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ্য বলে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল।

ওইদিনই মুক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ। সেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ২ মে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন শুনানি শেষে তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে মুক্তিকে। শনিবার তার তিনদিনের রিমান্ড শেষ হলে রোববার আবারো সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানতে চাইলে পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তিনি (মুক্তি) কিছুই বলছেন না। আমরা হত্যার বিষয়ে কিছু আলামত পেয়েছি। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই খুনের সঙ্গে আর কারো জড়িত থাকার তথ্য মিলছে না।’

পুলিশ জানায়, দেড় বছরের শিশু নিহাল সাদিককে ধারালো ছুরি বা ব্লেড দিয়ে কেটে হত্যা করা হয়েছে। আসামি মুক্তিও ধারালো ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নিজের গলার বাঁ পাশে পোঁচ মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। আত্মহত্যার চেষ্টার দায়ে তার বিরুদ্ধে উত্তরখান থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আত্মহত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিহাল হত্যা এবং নিজে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি চুপ করে থাকছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ এপ্রিল উত্তরখানে ভাড়া বাসা থেকে শিশু নিহালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মুরাদ বাদী হয়ে মা মক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আভিযোগে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে মুক্তি নিজের সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।