মেইন ম্যেনু

মুখে টেপ এঁটে ধর্ষণ করার সময় মৃত্যু হয় নার্গিসের

কামরাঙ্গীরচরে গৃহবধূ নার্গিস আক্তারকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নার্গিসের মুখে স্কচটেপ এঁটে ধর্ষণের সময় শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় তার।

সোমবার বেলা একটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

গতকাল রবিবার ঢাকা, কুমিল্লা ও মাদারীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীরচরের চাঞ্চল্যকর নার্গিস হত্যাকা-ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশ। তারা হলেন- মো. ফারুক ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান ও মো. পারভেজ। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে নার্গিসের ব্যবহৃত একটি পুরাতন মডেম-এম-২০৪ মোবাইল ফোন, তিনটি মুখোশ মানকি টুপি, দুটি স্বর্ণের চেন ও একটি স্বর্ণের আঙটি উদ্ধার করা হয়।

উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিহত নার্গিস আক্তারের স্বামী ইব্রাহিম মোল্লা রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় একটি ফটোকপির দোকানে কাজ করেন। তিনি সকালে কর্মস্থলে গিয়ে ফেরেন সন্ধ্যায়। এই সুযোগে তাদের পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী মেহেদী সম্পর্ক গড়ে তোলে নার্গিসের সঙ্গে। পরে মেহেদী তার দুই বন্ধু ফারুক ও পারভেজকে নিয়ে নার্গিসকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন নার্গিস ও তার চার বছরের ছেলের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেয় ফারুক ও পারভেজ। এরপর নার্গিসের হাত-পা বেঁধে তাকে ধর্ষণের সময় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় তার।

লালবাগের উপকমিশনার বলেন, “মেহেদী এমব্রয়টারির ব্যবসা করে। ব্যবসার সুবাদে তার সঙ্গে ফারুক ও পারভেজের সম্পর্ক। ”

নিহত নার্গিস আক্তারের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা বলা হয়েছে বলে জানান উপকমিশনার।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কামরাঙ্গীচরের একটি সাততলা বাড়ির নিচতলায় নার্গিস আক্তারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নার্গিস আক্তারের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে নার্গিসের স্বামী ইব্রাহিম মোল্লা, তার বাবা ও ছোট দুই ভাইকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যার ক্লু উদঘাটন করতে সমর্থ হয় বলে জানান উপকমিশনার।

সেই মতে বিভিন্ন স্থানে আসামি গ্রেপ্তরে অভিযান চালানো হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার আর এম ফয়জুর রহমানে, কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ও তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হিমায়েত হোসেন খান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপকমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার এসএম জাহাঙ্গির আলম সরকার, সহকারী কমিশনার আরাফাত, কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মোহসীন আলম।