মেইন ম্যেনু

মুছার সঙ্গে ‘নিখোঁজ’ হচ্ছে মিতু হত্যাকাণ্ড?

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা বাবুল সিকদারের ছোট ভাই মুছা সিকদার পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার মূল মোটিভ বলে নিশ্চিত পুলিশ। কিন্তু তাকে ধরা-না ধরার মাঝে হাওয়া মুছা।

পলাতক মুছাসহ আরও চারজনের দেশছাড়ার বিরুদ্ধে পুলিশের রেড অ্যালার্ট জারির তিন দিন পর তাদের দুজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়।

তবে মুছাকে পলাতক দেখানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার ও পরিবারের লোকজন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পান্না আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী মুছা সিকদার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। কখন কোথা থেকে কীভাবে পুলিশ মুছা সিকদারকে আটক করে নিয়ে যায়, তারও বিবরণ দেন তিনি।

কিন্তু পুলিশ বলছে, তাদের কাছে নেই মুছা সিকদার।

মুছাকে পুলিশ খুন করে কোথাও লাশ ফেলে দিয়েছে মনে করে খালে-বিলে, নালা-নর্দমায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও মিলছে না জীবিত বা মৃত মুছাকে।

এমতাবস্থায় চট্টগ্রামের সচেতন মহল মনে করছে, মুছার সঙ্গে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পথে আলোচিত মিতু হত্যার ঘটনাও।

বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মাইক্রোচালক, শিবিরকর্মী, মাজারের খাদেমসহ কয়েকজনকে আটকসহ নানা নাটকের একপর্যায়ে পুলিশ হঠাৎ মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নবী ও মনির নামে দুই ব্যক্তিকে আটকের বিষয়টি প্রকাশ করে।

ওই সময় হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা মূল ব্যক্তিসহ আরও দু-তিনজন আটক থাকার কথা জানায় পুলিশ। দুই দিন পর আরও দুই ব্যক্তিকে আটকের কথা বলে হত্যাকা-ের নেতৃত্বে মুছা সিকদারের থাকার তথ্য প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।

তবে এর এক দিন আগে পুলিশ বাবুল আক্তারকে তার শ্বশুরের বাসা থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে গণমাধ্যমে। প্রশ্ন ওঠে, মিতু হত্যাকাণ্ডে স্বামী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা থাকা-না থাকা নিয়েও।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে মিতু হত্যার নেতৃত্বে থাকা মুছা সিকদারের মুখোমুখিও করা হয়েছিল এসপি বাবুল আক্তারকে। কিন্তু এর দুই দিন পর পুলিশ জানায়, মুছা পলাতক। তার সাথে আরও চারজন যেন বিদেশে পালাতে না পারে সেজন্য রেড অ্যালার্ট জারি করে সিএমপি।

কিন্তু মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আক্তার ৩০ জুন সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, গত ২২ জুন ডিবি পুলিশ মুছা সিকদারকে নগরীর পতেঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকৃকত নবীর মাধ্যমে ফোনে ডেকে এনে মুছাকে আটক করা হয় বলে জানান তিনি।

মুছার স্ত্রী বলেন, পুলিশ মুছার সঙ্গে রাশেদ নামে একজনকেও পলাতক ঘোষণা করে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। কিন্তু ঘোষণার তিন দিন পর রাশেদকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঠান্ডাছড়ি পাহাড়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরোয়।

চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী লেয়াকত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে পুলিশের ভূমিকা ও আচরণ সন্দেহজনক।

লেয়াকত হোসেন বলেন, এমনও হতে পারে মিতু হত্যায় বড় কোনো রাঘববোয়াল জড়িত। তার তথ্য প্রকাশ না পাওয়ার লক্ষ্যে মুছাকে গায়েব করে ফেলা হতে পারে। এমনকি বাবুল আক্তার নিজেই চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসির মোড় এলাকায় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান এ মামলার তদন্ত করছেন।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. কামরুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডে ৭-৮ জন অংশ নেয়, যাদের প্রত্যেককে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। এর মধ্যে রাশেদ ও নবী নামে দুজন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি এলাকার পাহাড়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ভোলা ও মনির নামে দুজন রিমান্ডে রয়েছে। অন্যরা পলাতক।” খবর ঢাকাটাইমসের।