মেইন ম্যেনু

মুরগি কেন সারা বছর ডিম পাড়ে?

মুরগি কেন সারা বছর ডিম পাড়ে- এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই হয়তো জানা নেই। বুনো পাখিরা কিন্তু সারা বছর ডিম পাড়ে না। কিন্তু মুরগি এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। গবেষকরা বলেন, থায়োরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন রিসেপটর (টিএসএইচআর) নামের একটি জিন বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বুনো পাখিদের ডিম পাড়ার বিষয়টি ঠিক করে দেয়।

মুরগির মধ্যে এই জিনের প্রভাব পরিবর্তিত (মিউটেশন) হয়েছে। ফলে সারা বছর মুরগি ডিম পাড়ে। তাই মানুষের গৃহপালিত পাখির তালিকায় মুরগি সবার ওপরে। তবে সব জাতের মুরগি কিন্তু ডিম পাড়ে না। এটা সবারই জানা।

ডিম উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে চীন। বিশ্বের ৪০ শতাংশ ডিমের জোগান আসে চীন থেকেই! ১৯৮৪ সালে ডিমের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে শীর্ষে উঠে আসে চীন। তবে চীনের বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগ এখানেও আছে।

ডিমের এত বড় জোগান দিতে চীন কারখানায় ডিম তৈরিও করে! রেজিন, স্টার্চ এবং আরো কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি নকল ডিম এতটাই নিখুঁত যে, বোঝার কোনো উপায় নেই কোনটা আসল আর কোনটা নকল।

নতুন জাতের ডিম পাড়া মুরগি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)। গবেষণায় সোনালি ডিমের মুরগি ‘স্বর্ণা’ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে প্রায় পাঁচ বছর গবেষণার পর নতুন জাতের ডিম পাড়া মুরগি ‘স্বর্ণা’ উদ্ভাবন করে বিএলআরআই। এতে সহায়তা করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)। একদিন বয়সেই এ মুরগির পালকের রঙ দেখে মোরগ বা মুরগি সনাক্ত করা যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির পালকের রঙ গাঢ় বাদামী বা সোনালি বর্ণ ধারণ করতে থাকে। লাল ঝুটি ও সোনালী পালক বিশিষ্ট উদ্ভাবিত নতুন প্রজাতির মুরগিকে ‘বিএলআরআই লেয়ার স্ট্রেইন-২’ বা ‘স্বর্ণা’ নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা অন্যান্য হাইব্রিড মুরগির মতই ২০ সপ্তাহ বয়সে ডিম দেয়া শুরু করে। এ জাতের মুরগি একটানা ৮০ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিম দেয়।