মেইন ম্যেনু

মুলাদীর জয়ন্তী নদীতে বালু লুটের মহোৎসব: সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল: বরিশালের মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী নদীতে চলছে স্থানীয় বালু খেকোদের বালু লুটের মহোৎসব। ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব, তেমনি অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙ্গন বেড়েই চলেছে। ওইসব বালুখেকোদের কারনে সর্বগ্রাসী হচ্ছেন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা।

সরেজমিনে মুলাদী উপজেলার মৃধারহাট এলাকার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী এলাকা ঘুরে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এককালের রাক্ষুসি জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদী ওই এলাকার তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে।

নদীর ভাঙ্গণে আজও মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি ওইসব গ্রামের শতাধিক পরিবারের। গত কয়েক বছর পূর্বে ভাঙ্গণ কবলিত এলাকায় চর জেগে ওঠায় সর্বশান্ত পরিবারগুলো বাঁচার স্বপ্ন দেখেন। এরইমধ্যে জেগে ওঠা চরের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে চরকালেখা গ্রামের প্রভাবশালী ভূমিদস্যু রোকন মোল্লা, মাওলানা আবু তাহের জমদ্দার, আবু ছালেহসহ তাদের সহযোগীদের। তারা গত একমাস ধরে জেগে ওঠা চর ও নদীর বিভিন্নস্থানে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা জমজমাট করে তুলেছে।

তারা ড্রেজারের মাধ্যমে গ্রামের পুকুর ও ডোবা ভরাটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদী ভাঙ্গণের হাত থেকে নিজেদের বাড়িঘর রক্ষা করতে প্রভাবশালীদের বাঁধা দেয়ায় ইতোমধ্যে তাদের (বালু খেকো) হামলার স্বীকার হয়েছেন, একই এলাকার সেকান্দার হাওলাদার। ওই হামলার পর বালুখেকোদের ভয়ে এলাকার কেহ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ এলাকার নদীতে বালুগ্রাসী সিন্ডিকেট চক্র দীর্ঘদিন থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে প্রতিবছরই এ জেলায় নদীভাঙ্গনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ওইসব বালুখেকোদের কারনে সর্বগ্রাসী হচ্ছেন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা।

পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে জেলার বালুমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান বলেন, ইজারাভুক্ত এলাকা ছাড়া কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে পারবে না।

যদি কেউ ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে থাকে তা হলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুলাদীর মৃধারহাট এলাকার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।