মেইন ম্যেনু

মুশফিক কেনো অবাক? সাদামাটা উদযাপনে সাকিব এমন কি করলেন?

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ডাবল সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহিমের দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসের শুক্রবার কিউইদের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্কোর বোর্ড ৫০০ ছাড়িয়েছে।

এদিন তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেন সাকিব। তারা ব্যক্তিগত ২১৭ রানের উপর ভর করে দলীয় ৫৪২ রান সংগ্রহ নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

কিউইদের বিরুদ্ধে এ অসাধারণ এক ইনিংস খেলা সাকিবের সাদামাটা উদযাপনে অবাক মুশফিক অধিনায়ক মুশফিক। কেনো? দ্বিতীয় দিন শেষে সাংবাদিকদের বিস্মিত মুশফিক বলেন,

‘সাকিবটা যে কী! সে প্রথমে সেঞ্চুরি করেছে, ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। কিন্তু কোনও কিছুতেই তার যেন কোনও প্রতিক্রিয়া নেই! ব্যাট তুলতেই চাচ্ছিল না এমন যেন একটা অবস্থা তার।’

অবাক হওয়াটা এ পর্যন্তই, এরপর সাকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুশফিক। তার দেখা সাকিবের এটা সেরা ইনিংস কি না জানতে চাইলে অধিনায়কের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘হ্যা অবশ্যই।

এটাই সাকিবের সেরা ইনিংস। সে যেভাবে ব্যাটিং করেছে আমার কখনোই মনে হয়নি কোনও সমস্যা হচ্ছে তার। পরিকল্পনামতো সে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছিল।

তাকে দেখে মনে হয়নি সে দুইশ বা একশ করছে। কোনও কিছুতেই যেন তার কোনও আবেগ নেই। খুবই স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল তাকে।’

বাংলাদেশের অলরাউন্ডারকে অভিনন্দন জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘সে আজ শুধু তার ব্যক্তিগত না, বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছে। এজন্যে তাকে অভিনন্দন। আশা করছি আমাদের আরও যেসব খেলোয়াড় আছে, তারাও আগামীতে আরও বড় বড় ইনিংস খেলবে।’

দুইজনের রেকর্ড জুটি হলো এদিন। আগেও শক্ত কয়েকটি জুটি গড়েছেন সাকিব-মুশফিক। তাই প্রশ্ন শুনতে হলো তাদের এ সাফল্যের রসায়নটা কী? মুশফিক বলেন, ‘রসায়ন তো অবশ্যই আছে।

সে বরাবর আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করে। তার এ ধরনের খেলা আমিও খুব পছন্দ করি। আরেকটা ব্যাপার ভালো লাগে তার, ক্রিজে সে খুব বেশি কথা বলে না।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো কিছু জুটি আছে। অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে অনেকদিন ধরে আমরা দুইজন একসঙ্গে খেলছি। আশা করব সে যেন এমন এক ইনিংস আগামীতেও বাংলাদেশকে দিতে পারে।’

উল্লেখ, ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৬ বলে ৩১টি চারের সাহায্যে ২১৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

যা বাংলাদেশি কোনো ক্রিকেটারের পক্ষে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ২০৬ রানের ইনিংসটি ছিল সর্বোচ্চ।