মেইন ম্যেনু

মুস্তাফিজের কাছে অনেক প্রশ্ন কিন্তু…

আন্তর্জাতিক প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে পাঁচ ও ছয় উইকেট। এরকম বোলিং স্পেল অন্য কোনো ক্রিকেটারের নেই। শতশত বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে এরকম রেকর্ড কেউ গড়তে পারেনি। কিন্তু রোববার নতুন এক এলিট ক্লাব ওপেন করলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুস্তাফিজ। ভারতের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা তার বাহাতের কারুকার্যে বধ। কাটার কিংবা স্লোয়ার কোনটাই খেলতে পারছে না টিম ইন্ডিয়া।

কিন্তু ভারতকে বধ করা এই ক্রিকেটারের মুখে কোনো কথা নেই। চুপ-চাপ, শান্ত আর মুখে শুধু হাসি। যেই হাসি ছড়িয়ে যায় টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া। আর সীমান্ত অতিক্রম করে মুস্তাফিজের হাসি কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে দেড় শ কোটি ভারতীয়দের।

মনে হচ্ছে, এখন দেড় শ কোটির ভারতীয়দের অঘোষিত শত্রু ‘মুস্তাফিজ’! বাংলার এই নায়কের কাছে হাজার-হাজার প্রশ্ন. কিন্তু কোনো উত্তর নেই। তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় এতো ভালো বোলিংয়ে রহস্য কী? শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে একটিই উত্তর, ‘অনুশীলন করতে করতে হয়ে গেছে।’

রোববারের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন, পাঁচ দিন আগের জীবন আর এখনকার জীবনের কতটুকু পার্থক্য? চুপচাপ মুস্তাফিজের সহজ উত্তর, ‘একটু পরিবর্তন। ভারতের সঙ্গে ভালো খেলছি, তাই ফোন-টোন আসছে সবার…’ কথাটা শেষ করতে পারেনি মুস্তাফিজ তার আগেই ভারতীয় এক সাংবাদিকের পরামর্শ, ‘মন খুলে বলুন মুস্তাফিজ।’

কিন্তু কে শুনে কার কথা। মুস্তাফিজের কাছে পরের প্রশ্ন, ধোনির উইকেট পেয়ে কেমন লাগলো? উত্তর, ‘আমার সব উইকেট ভালো লাগে। উইকেট তো উইকেটই।’

দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুটিতেই ম্যাচসেরা। দুটিতে ১১ উইকেট। যা এক নতুন রেকর্ড। কিন্তু রেকর্ড নিয়ে ভাবার সময় তো মুস্তাফিজের নেই। নিজে জানতেন না রেকর্ডের কথা। কার কাছ থেকে ড্রেসিং রুমে শুনেছেন তাও মনে নেই। শুধু মুখ ফুটে বললেন, ‘অনেক ভালো লাগছে রেকর্ড গড়ে। দুটি খেলা খেললাম মাত্র… সামনে তো আরো খেলা আছে। আরো ভালো খেলতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রান্তেু মুস্তাফিজের কাছে জানতে চাওয়া, ‘দুদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে কেমন লাগছে? উত্তরটা দুই শব্দের, ‘খুব ভালো।’