মেইন ম্যেনু

মুস্তাফিজে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে আনন্দবাজার

শাহ মতিন টিপু : মনে হচ্ছে, ভাষা হারিয়ে ফেলেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আনন্দবাজারের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। যার প্রতিফলন এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালেও দেখা গেছে। কিন্তু চলতি আইপিএলে তাদের সে উচ্ছ্বাসটা যেন চোখে পড়ছে না।

যখন মুস্তাফিজ দাপটে তটস্থ গোটা ভারতের ক্রিকেট দর্শক, তখন আনন্দবাজারের এই চুপসে যাওয়ার মর্মার্থটা কী? বিষয়টা কী তাদের জন্য অসহ্যের হয়ে উঠেছে নাকি তারা ম্যাজিক্যাল মুস্তাফিজে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে!

মুস্তাফিজের কচি মুখ থেকে কথা গলিয়ে একটা অন্যরকম ইন্টারভিউ সম্প্রতি দাঁড় করাতে চেয়েছিল আনন্দবাজার। বয়সটা কম হলেও কথার প্যাঁচ কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন তরুণ মুস্তাফিজ। না হয় ক্রিকেটে বাংলাদেশ-ভারত ঠোকাঠুকিটা আরো বাড়তে পারত। মুস্তাফিজের সেদিনের সুন্দর জবাবে আর কেউ না হোক বাংলাদেশের দর্শক গর্বিত। কিন্তু সে ইন্টারভিউতে কি খুশি হতে পারেনি আনন্দবাজার? কারণ, তারপরে মুস্তাফিজ নিয়ে লেখার বেশ কিছু বিষয় সামনে এলেও আনন্দবাজার যেন সেভাবে সরব হতে পারছে না। মুস্তাফিজ শিরোনামে আসার মতো কিছু করলেও তা নিয়ে আইটেম হচ্ছে না।

শনিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ম্যাচে মুস্তাফিজ ম্যাচসেরা হলেন। তার চেয়ে বড় কথা এই ম্যাচে যে বোলিং ম্যাজিক মুস্তাফিজ দেখালেন, এমন উদাহরণ কটা আছে! এমন বোলিংয়ে শন মার্শরা ভাষা হারাতেই পারেন কিন্তু আনন্দবাজার কেন ভাষা হারাল।

আনন্দবাজার এদিনের দুটো ম্যাচ রিপোর্ট একত্র করে প্রকাশ করল, তাও ছবিটা দিল দিল্লি ডেয়ারডেভিললের। এই রিপোর্টের শেষাংশে মুস্তাফিজের হায়দরাবাদের যে কটি লাইন দিয়েছে, তা এ রকম- ‘শনিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে আবার ম্যাচের সেরা মুস্তাফিজুর রহমানের দাপটে (২-৯) কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিনে উঠে এল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (৫ ম্যাচে পয়েন্ট ৬)। কিংসের ১৪৪ রানের টার্গেটে ডেভিড ওয়ার্নার (৫৯) ও শিখর ধাওয়ানের (৪৫) ব্যাটিংয়ের জোরে ১৭.৫ ওভারেই তুলে দেয় সানরাইজার্স।’

অবশ্য এর আগের দিনও আনন্দবাজার লিখেছে ‘সানরাইজার্সে মুস্তাফিজের নাম এখন ‘ফিজ’। এই নামেই তাকে সবাই ডাকে। মুস্তাফিজুর দলে এখন এতটাই প্রিয় যে, তার জন্য বাংলা শিখতেও কোনো আপত্তি নেই দলের বিদেশি প্লেয়ারদের। এমনকি কোচেরও। মুস্তাফিজুর বাংলা ছাড়া কিছু বলতে পারেন না বলে ইতিমধ্যেই দলে তাঁর জন্য দোভাষী রাখার কথা ভাবা হয়েছে। কিন্তু তাতে ঠিক জমছে না মুডি, ওয়ার্নার, লক্ষ্মণদের। বরং কী হবে আর কী হবে না, সেটা নিয়ে না ভেবে নিজেরাই বসে পড়েছেন গুগলের সামনে।’

গুজরাটকে হারানোর দিন ভুবনেশ্বর কুমার ম্যাচসেরা হলেন, আনন্দবাজারের আলোচনায়ও এলেন।সেদিন মুস্তাফিজ যা করলেন আলোচনায় এলই না। অবশ্য গুজরাট ম্যাচের আগাম রিভিউতে দুই টিমের তারকা সম্পর্কে বর্ণনায় আনন্দবাজার লিখেছিল, ‘আর আছে মুস্তাফিজুর রহমান, আগামী কয়েক মৌসুমে নিলামের টেবিলে যাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতে পারে।’