মেইন ম্যেনু

‘মুস্তাফিজ’ এর সন্ধান পেয়েছে ভারত!

বাংলাদেশি পেস বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমানের আবির্ভাব ভারতকে চমকে দিয়ে। অভিষেকে পাঁচ উইকেট সহ পরপর দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে মোট ১৩টি উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ, যে কিনা বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইন-আপকে ঠিক তাসেরই ঘরের মত স্রেফ উড়িয়ে দিলো। তার বোলিংয়ের দাপটে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে ভারত।

সেই থেকেই ভারতীয়দের মনের ভেতরে গেঁথে যাওয়া নাম মুস্তাফিজ রহমান। আর তাইতো ভারত আজকাল তাদের উদীয়মান পেস বোলারদের ভেতরে কপিল দেব, জহির খান, ওয়াসিম আকরাম বা ব্রেট লি’দেরকেও নয়, খুঁজছে বাংলাদেশের ‘মুস্তাফিজুর রহমান’কে। মুস্তাফিজের মতো একজন ‘বিদ্ধংসী পেসার’ যে তাদের খুবই দরকার।

আর আশ্চর্যজনকভাবে নাকি তারা ‘তাদের মুস্তাফিজ’কে পেয়েও গেছে! আর ভারতের এই মুস্তাফিজের নাম ‘বারিন্দার স্রান’ ।

হয়তো পুরোপুরি মুস্তাফিজের মতো নয়, তবে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বারিন্দর স্রানের গল্পটা বেশ মিলে যায়। দুজনই বাঁহাতি পেসার। দুজনের শুরুটা একেবারে অজপাড়া গ্রাম থেকে। একটা পর্যায়ে ভাইয়ের সঙ্গে প্রথমে ট্রায়ালে যাওয়া। এর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দলের দুয়ারে কড়া নাড়া। এ পর্যন্ত মুস্তাফিজের সঙ্গে স্রানের বেশ মিল।

পার্থক্যটা এরপরই। আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেই সাড়া জাগিয়েছেন মুস্তাফিজ আর স্রান সবে ডাক পেলেন অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে। ইতিমধ্যে স্রানকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গুলোতে। স্রানকে তুলনা করা হচ্ছে মুস্তাফিজের সঙ্গেও।

ভারতের বেশকিছু সংবাদমাধ্যম এভাবে শিরোনাম হয়েছে, ‘পাওয়া গেছে ভারতের মুস্তাফিজ’। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের একদিনের দলের নবাগত সদস্য বারিন্দার।

ভারতের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ তো শিরোনামই করে ফেললো , ‘ বারিন্দর স্রানের মধ্যেই কি ভারত নিজেদের মুস্তাফিজুর রহমানকে খুঁজে পেল?’

12391858_10204180066221202_3960790378098553667_n

ভারতের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ‘জিনিউজ’-এর শিরোনাম।

পাঞ্জাবের এই বাঁহাতি পেসার বক্সিং রিং থেকে এসেছেন ক্রিকেটের বাইশ গজে। সতেরো বছর পর্যন্ত বারিন্দার ছিলেন অলিম্পিকে পদক জয়ী বক্সার বিজেন্দ্র সিংয়ের গুরু জগদীশ সিংয়ের ছাত্র। আইপিএলের দল কিংস ইলেভেনের ইউথ হান্ট প্রোগামে গিয়ে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এই পাঞ্জাব পুত্রের।

এরপর পঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দৌলতে আইপিএল ও বিদেশি দলের বিরুদ্ধে নেটে বল করার সুযোগ পান। বলের গতি দেখে তাকে সুযোগ দেয়া হয় ভারতের অনূর্ধ ১৯ দলে। আইসিসির অ্যাকাডেমিতেও প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পঞ্জাবের হয়ে রঞ্জিত ট্রফি খেলে নিজেকে ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিত করেন। চলতি বিজয় হাজারে ট্রফিতে পঞ্জাবের হয়ে বারিন্দারের দুরন্ত ফর্মই নজর কাড়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকদের।

২০১১-১২ মৌসুমে পাঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ১৪ উইকেট নেওয়ার পরই চোটের কারণে গিয়েছিলেন হারিয়ে। চোট কাটিয়ে আবারও ফিরলেন ক্রিকেটে। ট্রায়ালে সুযোগ পেলেন রাজস্থান রয়্যালসে। রাজস্থানের মেন্টর রাহুল দ্রাবিড় ভীষণ চমকেই গিয়েছিলেন স্রানকে দেখে। তরুণ তুর্কির ভীষণ যত্ন নিয়েছিলেন ‘দ্য ওয়াল’। আরেক ভারতীয় তারকা যুবরাজ সিং রীতিমতো অভিভূত স্রানের বোলিংয়ে।

Brainder-Sran-BCCI-compressed1

রাজস্থান রয়্যালস স্রানকে দশ লক্ষ রুপিতে কিনে নিয়েছিল। ছবিঃ বিসিসিআই

১১টি প্রথম শ্রেণি ম্যাচে ৩২ উইকেট ও ৭ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেওয়া ২৩ বছর বয়সী স্রান অস্ট্রেলিয়া সফরে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন মূলত এ মৌসুমের পারফরম্যান্স দিয়েই। রঞ্জি ট্রফিতে পাঞ্জাবের হয়ে এ মৌসুমে পেয়েছেন ৭ ম্যাচে ১৮ উইকেট। আর বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট।

জহির খান এর মধ্যেই অবসর নিয়েছেন। আরেক বাঁহাতি পেসার অশিষ নেহরা ভারতীয় দলে ফিরেছেন চার বছর পর। তারও এখন ক্যারিয়ারের শেষ সময়। এই মুহূর্তে একজন বাঁহাতি পেসার আসলেই দরকার ভারতের। সেই দরকার থেকেই তারা প্রথমবারের মতো দলে ডেকেছে স্রানকে।

২৩ বছর বয়সী পাঞ্জাবের এই পেসারের ঘরোয়া ক্রিকেট পরিসংখ্যান খুব একটা রোমাঞ্চিত হওয়ার মতো কিছু নয়। তারপরও ভারত তার মধ্যে খুঁজে ফিরছে মুস্তাফিজকে।