মেইন ম্যেনু

মুস্তাফিজ-জাদুতে হায়দরাবাদের জয়রথ ছুটছেই

আইপিএলে মুস্তাফিজ-ঝলক চলছেই। প্রতিটা ম্যাচেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার।

শনিবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের নজির দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। তার দল হায়দরাবাদও পেল টানা তৃতীয় জয়।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাঞ্জাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪৩ রান করে পাঞ্জাব। জবাবে ৫ উইকেট ১৩ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় হায়দরাবাদ।

৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদের জয়ের নায়ক মুস্তাফিজ। আইপিএলে প্রথমবারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে মুস্তাফিজের হাতেই।

পাওয়ার-প্লেতে ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন মুস্তাফিজ। উইকেট পেতে পারতেন প্রথম বলেই। এগিয়ে এসে হাঁকাতে চেয়েছিলেন মানান ভোহরা। মুস্তাফিজের অফ কাটার অল্পের জন্য ভোহরার ব্যাটের কানায় লাগেনি।

পরের তিনটি বলও ঠিকমতো খেলতে পারেননি ভোহরা। পঞ্চম বলে ব্যাটে লাগিয়ে দৌড়ে রান নিয়ে গিয়েছিলেন, শিখর ধাওয়ানের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট ভোহরা। শেষ বলও ডট। এবারের আসরে হায়দরাবাদের প্রথম মেডেন মুস্তাফিজের।

মুস্তাফিজের বলে রান নিতে দশম বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে পাঞ্জাবের ব্যাটসম্যানদের। তাও আবার ইয়র্কার বল কোনোমতে ঠেকিয়ে এক রান নেন অক্ষর প্যাটেল।

এরপর মুস্তাফিজ দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণে আসেন ১৪তম ওভারে, পাঞ্জাবের স্কোর তখন ৮৯/৪। প্রথম দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি শন মার্শ। তৃতীয় বলটি কাটার, এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে মার্শ (৪০)। এই ওভারে মাত্র ১ রান নিয়ে নেন মার্শের উইকেট।

তৃতীয় ওভারে এসে কোনো উইকেট পাননি মুস্তাফিজ, তবে দিয়েছেন মাত্র ২ রান। এরপর নিজের শেষ ওভার করতে আসেন ইনিংসেরও শেষ ওভারে। প্রথম বল থেকে ২ রান। পরের বলে উড়িয়ে মারতে যান নিখিল নায়েক, হেনরিক্সের দারুণ রানিং ক্যাচ। নিখিলকে আউট করার পরই বড় স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘ম্যাজিক্যাল মুস্তাফিজুর’! এদিন ধারাভাষ্য কক্ষেও ছিল মুস্তাফিজ-বন্দনা।

শেষ ওভারে মুস্তাফিজ মোটে দেন ৬ রান। বোলিং ফিগার ৪-১-৯-২! ২৪ বলের মধ্যে ১৭টিই ডট। বাউন্ডারি হয়নি একটিও। ভাবা যায়? এদিন মুস্তাফিজের বোলিং এবারের আসরে ৪ ওভারের কোটা পূরণ করা বোলারের মধ্যে সেরা।

১৪৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের ভিত গড়ে দেন ডেভিড ওয়ার্নার ও শিখর ধাওয়ান। এই দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে ৯.৫ ওভারেই আসে ৯০ রান। ওয়ার্নার ফেরার আগে ৩১ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে ৪৪ বলে ৪৫ রান করেন ধাওয়ান। মাঝে ও পরে আরো ৩ উইকেট হারালেও ১৩ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ইয়ান মরগান করেন ২৫ রান।