মেইন ম্যেনু

‘মুস্তাফিজ শুধু মেধাবী নয়, কঠোর পরিশ্রমীও’

প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ওয়াটসনের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। একদিকে তারা যেমন অভিজ্ঞ, তেমনি মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। বল গ্যালারিতে পাঠানোই যাদের অভ্যাস। এমন প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোন বোলারের আতঙ্ক নেই? সব বোলারই তাদের সমীহ করে থাকেন। মুস্তাফিজ কিন্তু সেই ভয় পাওয়া বোলারের দলে নেই! কেন?

কিসের ভয়? মুস্তাফিজ তো উইকেট পাওয়ার জন্য খেলেন না। খেলেন স্রেফ আনন্দ পাওয়ার জন্য। সেখানে ভয় থাকলে তো চলে না! বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ছোটখাটো একটা হুমকিই দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। বলেছিলেন ‘আমি তো উইকেট পাওয়ার জন্য খেলি না। বোলিং করে আনন্দ পাওয়ার জন্য খেলি। উইকেট পেলে ভালো লাগে। আর আমার মনে হয়, যে বলটা আমি করি সেটা খেলতে সবারই অসুবিধা হয়। কোহলি দাদারও হয়।’

কথার সাথে মুস্তাফিজের কাজের মিল রয়েছে। কোহলি-ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং তাণ্ডবে যখন হায়দরাবাদের বোলাররা চিড়েচ্যাপটা। তখনও মুস্তাফিজ বল করে যাচ্ছেন আপন মহিমায়। যেন ভয়ডরহীন বোলার! ২০ ওভারের ম্যাচে ২২৭ রান তুলেছে বেঙ্গালুরু। যেখানে হায়দরাবাদের বোলারদের ইকোনোমি রেট প্রায় ১০ কিংবা দশের উপরে। সেখানে মিতব্যয়ী বোলারের পরিচয় দিলেন মুস্তাফিজ। ইকোনোমি রেট মাত্র ৬.৫০! সব মিলে ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় দুই উইকেট পকেটে পুরেছেন। সাজঘরে ফিরিয়েছেন ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও শেন ওয়াটসনকে।

এমন দুর্দান্ত বোলিং কে না চায়? প্রশংসা তো পাবেনই। হ্যাঁ, মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসাটা করতে ভুল করলেন না সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ। বললেন, ‘বিশ্বের সেরা বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজ অন্যতম। ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই ব্যাপক উন্নতি করেছে সে। এটাই আমার প্রথম যে মুস্তাফিজের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। আমি দেখতে পাচ্ছি, সে তার দক্ষতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। বোলিংয়ে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। পাশাপাশি সে জানে কীভাবে সেগুলো প্রয়োগ করতে হয়।’

অনুশীলনে মুস্তাফিজের কঠোর পরিশ্রম বিমোহিত করেছে লক্ষণকে, ‘মুস্তাফিজের কাজের ধরনটা চমৎকার। নেটে সব ডেলিভারি নিয়ে কাজ করে। মুস্তাফিজ শুধু মেধাবী নয়, কঠোর পরিশ্রমীও। নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করে। তার বোলিং দেখলেই ভালো লাগে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচে বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ওয়াটসনের বিপক্ষে যেভাবে বোলিং করেছে তা আমাকে বিমোহিত করেছে। যখন হায়দরাবাদের অন্যান্য বোলাররা মার খাচ্ছিল, ব্যতিক্রম ছিল মুস্তাফিজই। হাই-স্কোরিং ম্যাচে এই ধরনের উইকেটেও ইকোনোমি রেট ৬.৫০! সত্যিই অসাধারণ! আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই (অভিষেক) দারুণ বল করেছে সে।’