মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর আগে স্ট্যাটাস, ‘মারা গেছি’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস, ছবি শেয়ার করা এখন প্রতিদিনের রুটিন ওয়ার্ক। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ঘটনা আলোড়িত করে যাওয়ার মতই।

ব্রিটেনের ব্যবসায়ি সিমন বিনার এমনই ঘটনা ঘটিয়েছেন। নিজের মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকডইন প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘১৯ অক্টোবর, ২০১৫ সোমবার সুইজারল্যান্ডে আমি মারা গিয়েছি। আমার শ্রাদ্ধ ১৩ নভেম্বর, ২০১৫ শুক্রবার।’

অবশ্য এ মৃত্যু আত্মহত্যার মতই। তবুও ‘ভাইরাল’ হওয়ার কারণ হল তিনি ছিলেন দুরারোগ্য এমএনডিতে (মোটর নার্ভ ডিসিজ) আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন ৫৭ বছরের গুরুতর অসুস্থ সিমন আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। সুইজারল্যান্ডের এক ইউথ্যানেশিয়া (স্বেচ্ছামৃত্যু) ক্লিনিকে স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মৃত্যুর খবর দিয়ে গেলেন সিমন।

স্ট্যাটাস২

শুধু তাই নয়, স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে এক ইংরেজি নিউজ ওয়েবসাইটকে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন সিমন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে যখন বাড়ি ফিরে আসি তখনই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম কী করব। গুরুতর স্নায়ুর রোগ যে কোনোদিন সারবে না বুঝে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা বলেছিলেন এমএনডি (মোটর নার্ভ ডিসিজ) চিকিৎসা করালে ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত বাঁচব আমি। কিন্তু আমার এমএনডি-র চিকিৎসার ওপর ভরসা ছিল না। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এভাবে তিলে তিলে মরার থেকে হঠাৎ স্ট্রোক বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনেক ভাল।’

এই দুরারোগ্য এমএনডি হল বিরল স্নায়ুর রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে স্নায়ুতন্ত্র। পেশির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে ধীরে ধীরে অচল হয়ে যায় শরীর। আস্তে আস্তে  হাঁটাচলা, কথা বলা, খাবার গেলা, শ্বাস-প্রশ্বাস সব কিছুই বন্ধ হয়ে গিয়ে শেষ অবস্থায় চলে যায় রোগী। সুত্র: দি গার্ডিয়ান