মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর পরও ৩টি প্রাণ বাঁচিয়ে গেল যে কিশোরী

দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় কোনো ছাত্রী ৮৬ শতাংশ নম্বর পেলে বাবা-মায়ের খুশির অন্ত থাকে না৷ কিন্তু কেজল পাণ্ডের বাবা-মার চোখে শুধুই পানি৷ মেয়ে জানতেই পারল না সে সিবিএসই পরীক্ষায় এত ভাল ফল করেছে৷ কারণ ফল বেরোনোর মাস খানেক আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল সে৷ মেয়ে নেই৷ ব্যাপারটা যেন এখনো মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা৷ ভাই এখনো বিশ্বাস করে দিদি তাকে ছেড়ে চলে যায়নি৷ মেয়েকে চিরকালের মতো হারিয়েও তাকে অন্যভাবে বাঁচিয়ে রাখলেন কেজলের বাবা-মা। মৃত্যুর পরও তিনজনের জীবন দান করল ১৬ বছরের কেজল৷ তার দু’টি কিডনি ও যকৃৎ দান করেছেন তাঁরা৷ যার মধ্যে রয়েছে মুমব্রার ১৪ বছরের এক বাচ্চাও।

গত মাসে মোটরবাইকে করে মাকে নিয়ে বেরিয়েছিল কেজল। হঠাৎ পাশের একটা গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে ধাক্কা মারে বাইকে৷ রাস্তায় ছিটকে পড়ে যায় কেজল৷ চিকিৎসকরা জানান, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার ফলেই মৃত্যু হয়েছে তার৷ জন্মদিনের ঠিক ১০ দিন আগেই এক ঝটকায় সব শেষ হয়ে গেল৷ থানের বাসিন্দা কেজলের বাবা শ্যামাকান্ত পাণ্ডের চোখের কোণে পানি৷ বললেন, ‘ও আর নেই বিশ্বাসই হচ্ছে না৷ কিডনি আর যকৃৎ দানের মধ্যে দিয়েই ও বেঁচে থাকবে৷ ওর রেজাল্ট দেখার মতো মনের অবস্থা আর নেই৷ কমার্স নিয়ে পড়ে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে চেয়েছিল৷ ও যেটা বলত সেটাই করত৷ আমায় বলেছিল, জীবনে সফল হবে৷ পড়াশুনা করে একটা কোম্পানির প্রধান হয়ে উঠবে৷ যদিও এসব কথার আর এখন কোনো দাম নেই৷-সংবাদ প্রতিদিন