মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর ভয়ে দুদকে হাজির হতে পারছেন না মুসা!

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ ডেথ ফোবিয়ার (মৃত্যু আশঙ্কা) কথা জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদের হাজির হতে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। আগামীকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা মুসা বিন শমসেরের। ওই জিজ্ঞাসাবাদ পেছানোর জন্য আজ নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে আবেদন করলেন মুসা।

মঙ্গলবার দুপুরে মুসা বিন শমসেরের পক্ষে তার জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো প্রাইভেট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা দুদক চেয়ারম্যানের বরাবর আবেদনটি করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‍মুসা বিন শমসের ডেথ ফোবিয়ায় ভুগছেন। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকার কারণে জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ কমপক্ষে তিন মাস পেছানোর আবেদন করা হয়েছে। দুদক সূত্র এসব জানিয়েছে।

গত বছরের ৭ জুন ডেটকো গ্রুপের মালিক ও আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের জন্য গত ৪ জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সম্পদের উৎস সমর্থনে রেকর্ডপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কমিশনের আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় ও কমিশন বিধিমালার ২০ বিধির ফৌজদারি বিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক এ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

মুসা বিন শমসের দুদকে দাখিল করা তার সম্পদ বিবরণীতে বলেছেন, সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে তার ১২ বিলিয়ন ডলার রয়েছে; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে)। যৌথ অ্যাকাউন্টকাধারীদের মাঝে তারই নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এই টাকা আছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে যৌথ অ্যাকাউন্টধারীদের সঙ্গে ‘ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট’ থাকার কারণে ওই অ্যাকাউন্টে অন্যদের কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে এবং ওই অ্যাকাউন্টের অংশীদার কতজন সে বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি।

এছাড়াও সম্পদ বিবরণীতে বলা আছে, সুইস ব্যাংকের আরেক অ্যাকাউন্টে তার ৯০ মিলিয়ন ডলারের (৭১১ কোটি টাকা) সমপরিমাণ প্লাটিনাম, হীরা ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এছাড়া, সম্পদ বিবরণীতে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে ‘দ্য প্যালেস’ নামে ১৫ নম্বর বাড়িটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ কোটি টাকা নিয়েছেন মুসা বিন শমসের। ওই বাড়িটি তার নামে ছিল। পরে তিনি তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীকে বাড়িটি দান করেছেন। এছাড়া গাজীপুর ও সাভারে তার নামে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। তার কাছে ওইসব জমির দলিল থাকলেও জমিগুলো দখলে নেই। জমিগুলোর দখল ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মুসা বিন শমসের এই সম্পদ বিবরণীর বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের বক্তব্য ছিল, ‘মুসা যত গর্জে, তত বর্ষে না। দুদকের কাছে তিনি বিশাল জমি-জমার হিসাব দিয়েছেন। তবে কোনো জায়গাই তার দখলে নেই। আবার বিদেশে আটক ১২ বিলিয়ন ডলারের যে তথ্য দিয়েছেন, সেখান থেকে সে তথ্যও পাচ্ছি না। আবার সেও কিছু দিতে পারছেন না। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেছি, তেমন কিছু নেই। যতটা না করেছেন, তার চেয়ে বেশি বলেছেন তিনি।’

উল্লেখ্য, মুসা বিন শসমেরের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় প্রথমে তাকে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।