মেইন ম্যেনু

মৃত ছেলের হৃদস্পন্দন শুনতে ৬০০ মাইল পেরিয়ে এলেন মা!

পৃথিবীতে গর্ভধারিণী মার তুলনা আর কারও সাথে হওয়ার নয়। এবার সেটাই প্রমাণ হলো আরেকবার। চার বছরের বালিকার বুক থেকে নিজের ছেলের হৃদস্পন্দন শোনার জন্য প্রায় ৬০০ মাইল পেরিয়ে ছুটে এসেছিলেন হিথার ক্লার্ক।

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ফিনিক্স এসে বালিকা জর্ডনের বুকে ধীরে ধীরে স্টেথোস্কোপ লাগালেন। বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে স্টেথোস্কোপ নিজের কানে গুজতে কিঞ্চিত দ্বিধাবোধ। আশেপাশে তখন ক্যামেরা তাক করে প্রস্তুত ফটোগ্রাফাররা। শুনতে পেলেন হৃদপিণ্ডের ধুক-ধুক আওয়াজ। পাশে থাকা বালিকা জর্ডনের মা এস্থার গোঞ্জালেজ ফিসফিস করে কানের কাছে বললেন, “এটা তোমার ছেলের হৃদস্পন্দনের শব্দ।”

মুহূর্তের মধ্যেই মুখে হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন হিথার। একবছর পর এই প্রথমবার নিজের গর্ভে ধারণ করা ছেলের হৃদস্পন্দন শুনলেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই জানালেন, “মা হওয়ার পর এটিই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।”

আড়াই বছর আগে ২০১৩ সালের জুন মাসে মারা যায় হিথারের ১৭ মাসের শিশু পুত্র লুকাস ক্লার্ক। নিজের দেহে প্রাণ না থাকলেও দেহের বিভিন্ন অঙ্গ দিয়ে প্রাণ বাঁচান ৩ জনের। এদেরই একজন ফিনিক্সের জর্ডন ড্রেক। লুকাসের থেকে একমাসের বড় জর্ডন তখন জন্মগত হার্টের সমস্যা নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

অ্যারিজোনা প্রদেশের এক অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা জ্যাকলাইন কিদেল যোগাযোগ করিয়ে এই দুই পরিবারের সঙ্গে। লুকাসের হৃদয় প্রতিস্থাপন করানো হয় জর্ডনের শরীরে। সেই অসাধ্য সাধিত হওয়ার আড়াই বছর পর এখন জর্ডন আর ৫টা বাচ্চার মতো হেসে-খেলে দিন কাটাচ্ছে। প্রস্তুতি চলছে স্কুলে যাওয়ার, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের।