মেইন ম্যেনু

মৃত ব্যক্তির নামে ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলন

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের জিয়ারুন বিবি দুইবছর আগে মারা যান। অথচ তার নামেও দশ টাকা কেজির চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে মৃত ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য এই চাল পাননি। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট এই চাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।

একইভাবে গাড়ীদহ ইউনিয়নেও পাঁচজন মৃত ব্যক্তির নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

শুধু মৃত ব্যক্তি নন, হতদরিদ্রদের নামে দেয়া রেশন কার্ড দুর্নীতি করে ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উত্তোলন করছেন স্বল্পমূল্যের এই চাল। ফলে দুইদিনের মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে হতদরিদ্রদের জন্য দেওয়া চলতি মাসের ৩৩৬ টন চাল। পরে উত্তোলন করা ওইসব চাল কালোবাজারে বিক্রি করে লাখ টাকা নিচ্ছেন ওই সিন্ডিকেট সদস্যরা।

উপজেলার শাহবন্দেগী, গাড়ীদহ, ভবানীপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, এই কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি।

এদিকে প্রকৃত হতদরিদ্র রেশন কার্ডধারীরা চাল না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। প্রতিদিনই চাল বঞ্চিতরা স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ করছেন।

এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু বলেনি এবং এ বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা ও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১০ইউনিয়নে এই চাল বিক্রির জন্য মোট ২০ জন ডিলার রয়েছে।

সপ্তাহের তিনদিন শুক্রবার, শনিবার ও মঙ্গলবার এই চাল বিক্রি করবেন তারা। বিভিন্ন গ্রামের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র ১২ হাজার পরিবার দশ টাকা কেজি দরে একেকজন ব্যক্তি মোট ত্রিশ কেজি চাল কিনতে পারবেন। সে মোতাবেক ডিলারদেরকে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩৬ টন চাল দেয়া হয় বলে সূত্রটি জানায়।

কিন্তু এই চাল বিক্রিকালে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি আশ্রয় নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত প্রকৃত হতদরিদ্রদের না জানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের কার্ড দিয়ে স্বল্পমূল্যের চাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া গ্রামের জাহেদা বেগম, কহিনুর খাতুন, মোর্শেদা বিবি, ফুলেরা বেগম, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, সাধুবাড়ী গ্রামের জয়নব বেওয়া, চায়না খাতুনসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। তাই ডিলারের দোকানে চাল নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ডিলাররা জানান চাল দেওয়া শেষ।

তারা নাকি চাল উঠিয়ে নিয়ে গেছে বলেন ডিলাররা।

ওই ইউনিয়নের সচিব ইকবাল হোসেন দুলাল বলেন, ২০১১সালের তালিকা অনুযায়ী এই চাল বিক্রি করা হয়েছে। তাই দু-একটি সমস্যা থাকতেই পারে।

তবে আগামীতে সেটি হবে না। কারণ তালিকা যাচাই-বাছাই করেই এই চাল দেওয়া হবে তিনি দাবি করেন।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিন মণ্ডল জানান, তিনিও এই ধরনের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই চেয়ারম্যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান কার্ডধারী হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজির চাল শাহবন্দেগী, গাড়ীদহ ও ভবানীপুর ইউনিয়নে কালোবাজারে বিক্রির বিষয়ে অভিযোগে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।