মেইন ম্যেনু

ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরাম’র উদ্যোগে

মেঘনার ভাঙন থেকে ইলিশা-রাজাপুর রক্ষার জন্য জিও ব্যাগ বরাদ্দের দাবীতে মানববন্ধন

ফজলে আলম, ভোলা প্রতিনিধি : মেঘনার ভয়াল ভাঙনের হাত থেকে দ্বীপজেলা ভোলার ইলিশা-রাজাপুর অংশ রক্ষার জন্য জরুরী ভিত্তিতে আরও ১ লক্ষ জিও ব্যাগ বরাদ্দের দাবীতে ‘ ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরাম’র উদ্যোগে ভোলা সদর রোডের কে জাহান মার্কেটের সামনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার প্রায় ১০টি সংগঠন নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বানিজ্যমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় মানববন্ধনে ভোলার সর্বস্তরের জনগন উপস্থিত ছিল। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আজকে ভোলার সম্পাদক শওকাত হোসেন, ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি কাজল কুমার দে, সাধারন সম্পাদক এ্যাড: সাহাদাত শাহিন প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিল।
মেঘনার ভয়াল ভাঙনের ফলে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে দ্বীপজেলা ভোলা। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই দ্বীপের আয়তন। গত কয়েক বছরের মেঘনার ভয়াল ভাঙনে ভোলার রামদাসপুর, রাজাপুর, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, শিবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা মেঘনার গর্বে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারের থোক বরাদ্দ এনে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেও তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ভোলার রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের জংশন বাজার এলাকা গত ১ বছরেরর ভাঙনে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা মেঘনার গর্বে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে হাজার হাজার পরিবার নি:স্ব হয়ে পড়েছে। কেউ বসত ভিটা, কেউবা ফসলি জমি, মাছের ঘের, পুকুর, পানের বরজ সহ সর্বোস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। ভাঙনের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-লক্ষীপুর ফেরিঘাট। মেঘনার ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ইলিশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জংশন বাজারটি। ইলিশা-রাজাপুর তীর সংরক্ষন প্রকল্পের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও বর্ষার কারনে মূল কাজ এখনও শুরু হয়নি। বর্ষাকালীন ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যায়ে পোনে ৩ লাখ জিও ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির চাপে বেশ কিছু অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সেসব স্থানে জরুরীভাবে আরো অন্তত ১ লক্ষ জিও ব্যাগ স্থাপন করা প্রয়োজন বলে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা না হলে বিলীন হয়ে যাবে জংশন বাজার সহ আরও অন্তত ১ কিলোমিটার এলাকা। সাথে সাথে ইতোমধ্যে যে ১৪ কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে তাও কোন কাজে আসবে না বলে মনে করেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। ভাঙন রোধে এলাকাবাসী সহ বিভিন্ন সংগঠন বরাদ্দের দাবীতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ভোলার গর্ব বানিজ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত জিও ব্যাগ বরাদ্দ করে মেঘনার ভয়াল ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রক্ষার দাবী জানিয়েছেন।