মেইন ম্যেনু

মেঘনায় ইলিশ না থাকায় অলস সময় পার করছেন জেলেরা

মেঘনায় ইলিশ না থাকায় অলস সময় পার করছেন জেলেরা । নদীত্ গেলে মাছ পাইনা। একবার খেপে গেলে একটা-দুইডা ইলিশ পাই, খরচও উডি আইয়্যেনা। অভাবের সংসার ,বৌ-পোলাইন লই ক্যামনে চইল্মু । মাছ না পাইলে আংগো বাঁচনের কোন উপায় নাই। খরচ পোষেনা, ।

এভাবে কথাগুলো বলছেন ভোলা সদর উপজেলার তুলাতলি এলাকায় মেঘনা নদীর জেলে রহিম । বিগত বছরের ন্যায় এবারও মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে তার ট্রলারটিকে মেরামত করে আর কিছু জাল কিনে মেঘনায় নামে ইলিশের আশায়। তিনি’সহ ৬ জন মাল্লা নিয়ে প্রতিদিন ইলিশ ধরতে মেঘনায় যায়। কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ, আবার কখনো ঝড় উপেক্ষা করে চলে তাদের ইলিশ ধরা। কিন্তু যত কষ্টই করুক’না কেন প্রতিদিন বহমান দুই জোয়ারেই মেঘনায় যেতে হয় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে। ৬ ঘন্টা জোয়ারের ৬ ঘন্টাই তাদের নদীতে থাকতে হয়। এভাবেই তাদের কষ্টে মাখা প্রতিদিনের জীবন। একবার নদীতে গিয়ে ধারাবাহিক ৬ ঘন্টা পরিশ্রম আর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ করে মাছ যদি পায় ১টি কিংবা ২/৩টি তাহলে ঐ জেলে ট্রলারের ৬ মাল্লার মলিন মুখের চাহনিতে জাগা প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ ছাড়া কারও জানার কথা নয়। জেলে মজিবর বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় একান্ত বাঁচার তাগিদে অলস সময়ে অন্যের জমিনে কামলা খাটছেন। বর্তমানে তারা শ্রমের কাজ করে দৈনিক ৩ শত টাকা পাচ্ছেন। জমিতে আমনের চারা বীজ রোপন, জমির আইল দেওয়া, জমির উচু-নিচু সমতল করা, জমিতে সার দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে নানাবিধ কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে জেলেরা সাধারনত এধরনের কাজে অভ্যস্ত না হলেও একান্ত বাধ্য হয়ে একাজ করতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে ভোলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলের জীবন ও জীবিকা শুধুমাত্র এই মেঘনাকে ঘিরেই। মেঘনায় ইলিশ আছে’তো তাদের মুখে হাসি, নচেৎ তাদের জীবন চলে দুঃখে-কষ্টে। বিগত বছরও প্রথমে মাছ পাওয়া যায়নি। পরে শেষ মৌসুমে এসে মেঘনায় ইলিশের সমারোহে জেলেদের সকল কষ্ট দূর হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার মৌসুম প্রায় শেষ হতে চললেও নদীতে ইলিশের দেখা নেই। ট্রলার মালিক কিংবা মহাজনরাও জেলেদের ভরন পোষন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ভাবে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে ১৫ দিন মেঘনা- তেতুলিয়া নদীর ঘোষিত অভয়াশ্রমগুলোতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর পরই মৌসুম শেষ হয়ে যাবে। এবারের মৌসুম এভাবে কেটে গেলে জেলেদের দেনার পাল্লা এতই ভারী হবে যে ভাবতেই আৎকে উঠেন তারা। ভোলা সদর উপজেলার ইলিশায় মেঘনার জেলে সফি মাঝি বলেন, এবার নদীতে নামার আগে অনেক দেনা করেছি। গত বছরের গুলোতো আছেই। শুধু জেলেরা নয়, মহাজনরাও ভালো নেই। মৎস্য ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, মাছ না পাওয়া যাওয়ায় পুরো মৌসুম জেলেদের সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে। এভাবে চালাতে চালাতে আমরাও হাফিয়ে উঠছি।

এব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকতা প্রীতিশ কুমার মল্লিক বলেন, নদীতে ইলিশ নেই কেন, এটা আসলে গবেষনার বিষয়। তবে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মনুষ্য সৃষ্ট কারনও রয়েছে।