মেইন ম্যেনু

মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে অবাধে চলছে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম

মোঃ ফজলে আলম, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা: ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী দখল করে প্রভাবশালীরা নিষিদ্ধ জাল পেতে অবাধে ঝাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির রেনুপেনা নিধন করছে। এতে করে প্রতিদিন লাখ লাখ রেনু যেমন ধ্বংস হচ্ছে তেমনি ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে ইলিশাসহ বিভিন্ন মাছের বংশ বিস্তার।

এভাবে অবৈধ ভাবে মাছ ধরা হলে অচিরেই নদী থেকে মাছ শূন্য হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিতেপারে। হুমকির মধ্যে পরতে পারে ভোলার মৎস্য সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য বিভাগসহ কোস্টগার্ড কার্যকরি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দেশের বিশাল এ মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছের জন্য খ্যাত ভোলার মেঘনা তেতুঁলীয়া নদী জেলেদের জন্য উন্মুক্ত হলেও অধিক মুনাফার জন্য এক শ্রেনী প্রভাবশালী একটি চক্র কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতি কারক চর ঘেরা খুটা জাল, বেহুন্দি ও পাইজালসহ বিভিন্ন প্রকারের জাল ব্যবহার করে ঝাটকাসহ মাছের ডিম পর্যন্ত বিনষ্ট করছে। এই অবৈধ জাল ভোলার ইলিশা, কাচিয়া, শিবপুর, মদনপুর, দৌলতখানের মেদুয়া, তজুমদ্দিনসহ মেঘনার বিভিন্ন ডুবো চরে পাতা হয়। একটি জাল কমপক্ষে ১/২ কিলোমিটার লম্বা হয়ে থাকে। এসব জাল ডুবো চরে খুটি পুতে গারা হয়। অবৈধ এই জাল থেকে নদীর তলদেশের কোন মাছই রক্ষা পায় না।

এক দিকে যেমন মাছের বংশ বিস্তার ব্যাহত হচ্ছে তেমনি কয়েক কিলোমিটার এলাকা দখল করে রাখায় সাধারন জেলেও নির্বিঘেœ জাল পেতে মাছ ধরতে পারছেনা।

অপর দিকে ব্যহত হচ্ছে নৌযান চলাচলও। সাধারন জেলেরা বলছে, এতে করে মাছ ধরতে পারছেন না তারা। এবং তাদের নিষিদ্ধ জাল পাতা এলাকায় মাছও ধরতে দেয়া হয় না। এ পরিস্থিতিতে আগামীতে নদীতে বড় ইলিশ না পাওয়ার আশংকা রয়েছে।

ভোলা মৎস্য বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, গত বছর জেলায় ইলিশের আহরন হয়েছে ৯০ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন। এছাড়া ১৪.১৮ মেট্রিক টন জাটকা জব্দ করা হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজরদারী না থাকার কারনেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি। তবে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হলদার বলেন, তারা নদীতে অবৈধ জাল উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান করছে।

অপরদিকে কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার লেঃ নুরুদ্দিন খালিদ বলেন, তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা বিশেষ ভাবে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছেন এবং নিষিদ্ধ জাল আটকে অভিযান পরিচালনা করছেন।

এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে তারা অনেক অবৈধ জাল আটক ও ধ্বংস করেছে। স্থানীয়দের মতে, ভোলার নদী থেকে অবৈধ জাল উদ্ধার করতে না পারলে আগামীতে ভয়াবহ মাছের আকাল দেখা দিতে পারে।