মেইন ম্যেনু

মেডিকেল ভর্তিচ্ছুরা এবার আমরণ অনশনে

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া মেডিকল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় এ আমরণ অনশন কর্মসূচি। এসময় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানে অনশনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।

অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁস একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে একেবারে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে প্রতিনিয়তই ফাঁস হচ্ছে প্রশ্ন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাতেও সে কাণ্ডই হয়েছে। কিন্তু তা দেখেও না দেখার ভান করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি প্রশ্ন ফাঁস না-ই হয়ে থাকে তাহলে কেন এত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশের মন্ত্রী এমপিরাতো সর্দি-কাশি হলেও সিঙ্গাপুর যান। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে এটা তারা ভাবেন না। আমরা অনতিবিলম্বে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আশরাফ কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দয়া করে আপনি পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও আমাদের কথা শুনুন। আমাদের প্রমাণগুলো আপনি দেখুন এবং এরই ভিত্তিতে একটি সঠিক তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলোর সুরাহা করুন।’

অনশনে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আপনারা বায়ান্ন, একাত্তর কিংবা নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের কথা স্মরণ করুন। এদেশের ছাত্র সমাজ যা চায় তা করেই ছাড়ে। আপনি ছাত্রদের ক্ষেপাবেন না। দয়া করে আমাদের প্রমাণগুলো দেখে সঠিকভাবে বিষয়গুলোর সুরাহা করুন। আমাদের পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিন।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ তারিখ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করার পরদিন থেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এনে তা বাতিলের এবং পুনঃপরীক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছে ভর্তিচ্ছু কতিপয় শিক্ষার্থী। এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের প্রায় ১৬ দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ও এবিষয়ে যোগাযোগের চেষ্ঠা করেছেন আন্দোলনকারীরা। মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসা হবে বলে জানানো হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হলে তা আদালত খারিজ করে দেয়।