মেইন ম্যেনু

মেডিক্যালে নতুন রোগের আবিষ্কার, ঘুমের মধ্যে যৌন মিলন!

‘স্লিপ ওয়ার্কিং’-এর সঙ্গে আমরা সকলে পরিচিত। ঠিক এই ‘স্লিপ ওয়ার্কিং’-এর মতোই ‘স্লিপ সেক্স’ বা ‘ঘুমের মধ্যে যৌন মিলন’, যা একটা মেডিক্যাল ডিসঅর্ডার।

২০১৪ সালে এক সুইডিশকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় আদালত। কারণ, ওই ব্যক্তি ঘুমের ঘোর কখন সঙ্গিনীকে ধর্ষণ করেছিলেন তা বুঝতেই পারেননি। এমনকী, সকালে তিনি যখন ঘুম থেকে ওঠেছিলেন তখনও নাকি জানতেন না রাতে কী করেছেন। ওই সুইডিশ লোকটির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ‘স্লিপ সেক্স’ সিনড্রোমে ভুগছেন।এরপরই আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি দেয়।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্মায়ু বিশেষজ্ঞ মিশেল ক্র্যামার বোরনেম্যান-এর দাবি, এক ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে হস্তমৈথুনের অভ্যাসে অভস্ত্য ছিলেন। স্ত্রী এই ঘটনা দেখে মানসিক রোগী হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হতে থাকে তিনি স্বামীর খেয়াল রাখতে পারছেন না। স্বামীকে ভালবাসায় ভরিয়ে রাখতে পারছেন না। কিন্তু, এই অস্বাভাবিক যৌন স্বভাব আসলে ‘মেডিক্যাল ডিসঅর্ডার’ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ঠিক, তেমনি ঘুমের মধ্যে যৌন মিলন এবং ঘুম থেকে ওঠে তা টের না পাওয়াটাও একটা মেডিক্যাল ডিসঅর্ডার। এই অসুখ এতটাই খতরনাক যে কারোর জীবন শেষ করে দিতে পারে।

শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও এই ‘স্লিপ সেক্স’ সিনড্রোমে আক্রান্ত হন।১৯৯৬ সালে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর কলিন শাপরিয়ো ও ডক্টর নিক ত্রাজানোভিক এবং ওটাওয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের ডক্টর পল ফেডোরোফ প্রথম ‘স্লিপ সেক্স’-এর সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসেন। ২০০৩ সালের জুন মাসে কানাডিয়ান জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রি-তে এই নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়।

গবেষনায় প্রকাশিত হয়, যে মানুষের মস্তিষ্ক জেগে থাকা এবং ঘুমিয়ে থাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।যাঁরা এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হন তাঁদের মনে হয় তাঁরা জেগে আছেন। কিন্তু, আসলে তাঁরা ঘুমিয়ে থাকেন। এর জেগে থাকা বোধের মধ্যে এমন সব কাজ করেন যা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এমনকী, ঘুম থেকে জেগে তাঁরা খেয়ালও করতে পারেন না কি কাজ তারা ঘুমের ঘোরে করেছেন।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই নিয়ে গবেষণা চললেও এর কোনও উপশম বের করা যায়নি। তাই যাঁরা এই ধরনের অভ্যাসে আক্রান্ত তাঁরা কিছু মেডিটেশন এবং যোগাভ্যাসের মাধ্যমে ‘স্লিপ সেক্স’-এর প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারেন।এবেলা