মেইন ম্যেনু

মেলা থেকে এবার পছন্দ মতো কেনা যাবে বউ

“আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি”। জনপ্রিয় এ গানটি আমরা অনেকেই শুনেছি। গানটি শুনতে শুনতে হয়তো অনেকেই নস্টালজিয়ায় ডুবে যাই। মনে আসে, সেই ছোট্টবেলার কথা। যখন বাবা কিংবা ভাইদের হাত ধরে মেলায় গিয়ে এইসব কেনাকাটা ছিল অসম্ভব শখের।

একটা সময় ছিল যখন গ্রামীণ জীবনের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মেলা। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে অকৃত্রিম সেই মেলা অনেকাংশেই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। মানুষ মেলার যৌথ আনন্দকে ব্যক্তিগত প্রযুক্তির সুবিধায় আবদ্ধ করেছে।

তবে গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আর অংশুমান রায়ের গাওয়া “দাদা পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে” গানটি অন্য এক দ্যোতনা তৈরি করে।

বাঙালি জীবনের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে আছে মেলা। সেই মেলায় আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবার অংশগ্রহণ থাকে। শুধু অংশগ্রহণই নয়, মেলা থেকে কি কি কেনা হয়ে তারও পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায় একটু আগেভাগেই।

কেউ হয়তো নববধূকে নিয়ে মেলায় যান। হাত ধরে হাঁটাহাটি করেন। পছন্দের নানা কিছু কেনাকাটা করেন। হয়তো বউকে চুড়ি, আলতা, লিপস্টিক, চুল বাঁধার লাল টুকটুকে বাহারি ফিতে কিনে দেন।

কিন্তু কোনো যুবক বউ কিনতে মেলায় যাচ্ছেন- এমন কথা শোনার পর নিশ্চিতভাবেই অনেকের চোখ কপালে উঠবে। তবে বাস্তব দৃশ্য দেখার পর তিনিও সত্যিটা উপলব্দি করতে পারবেন। হ্যাঁ, মেলা থেকে শুধু চুড়ি, আলতা আর তালপাতার বাঁশিই নয়, কেনা যায় সুন্দরী বউও।

মেলা থেকে বউ এনে লিভ ইন করা যায়। পরে সময়মতো, সুবিধামতো বিয়ে করলেই হল। ভাবছেন বিদেশের গল্প শোনাচ্ছি? না খাঁটি দেশি গল্প। গল্প বললে ভুল হবে। সত্যি কথা। রাজস্থানের জয়পুর জেলার নয়াবাস গ্রামে রয়েছে শতবর্ষ প্রাচীন এই পরম্পরা। তবে গ্রামে এখন হটকেক – পাবুরা আর রুপালির কথা। বহুদিন লিভ ইন করার পর, শেষ পর্যন্ত রুপালিকে বিয়ে করেছেন পাবুরা। এই নিয়ে এখন চর্চা রয়েছে গোটা জয়পুর ও উদয়পুরে।

গ্রাসিয়া জনজাতির মানুষ বিশ্বাস করেন, জীবনে উপার্জন করতে গেলে সন্তান হওয়া জরুরি। বিয়ের আগে সন্তান প্রসব না হলে, পরেও হবে না। পরিবারে সুখ আসবে না। তাই পছন্দমতো পার্টনারের সঙ্গে আগেই লিভ ইন করে দেখে নেওয়া – সবকিছু ঠিক আছে কিনা। না হলে পরে আপশোশ করবে কে?

এবারে সমস্যা হল পছন্দমতো মেয়ে পাওয়া যাবে কোথায় ? তার জন্য নাকি মেলা বসে। ছেলেমেয়েরা নিজেদের মতো পার্টনার খুঁজে নিয়ে পালিয়ে যায়। লুকিয়ে থাকে। পণপ্রথা নেই। কিন্তু একটা অর্থ দেওয়া-নেওয়ার প্রথা আছে। নিয়ম হচ্ছে – ছেলে বা মেয়েকে আগে যারা খুঁজে বের করবে (মেয়ের বাড়ির লোকজন হোক বা ছেলের বাড়ির) তারা অর্থ দাবি করবে অপরপক্ষের কাছ থেকে। এটাই রেওয়াজ।

শুধুমাত্র যুবক যুবতিরাই নয়, কম বয়সী থেকে বিধবা মহিলা, সকলেরই অধিকার আছে পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার। সকলেরই অধিকার আছে লিভ ইন রিলেশনে থাকার। সকলেরই অধিকার আছে নিজের ইচ্ছে মত বিয়ে করার।এই যেমন পাবুরা আর রুপালি। দীর্ঘদিন লিভ ইন করার পর, এই এতদিনে তাঁদের মনে হয়েছে বিয়ে করার দরকার। তাই এবার বিয়ে করলেন ওরা। পাবুরার বর্তমান বয়স ৮০ বছর, রুপালির ৭০। এতটাই প্রগতিশীল এই গ্রাসিয়া জনজাতি। দেখে মনেই হয় না, এরা ভারতেরই বাসিন্দা। তবে মনে না হলেও সেটিই প্রকৃত সত্য।