মেইন ম্যেনু

মেসিকে হারিয়ে দিলেন রোনালদো

২১তম মিনিটে মাঠের বাইরে চলে গেলেন। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে মাঠে ফিরে এলেন আবার। দাঁড়ালেন ডাগআউটে। কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দল পরিচালনা শুরু করেদিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যেন একজন কোচ। এডেরের গোলের সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠলেন। এরপর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে মুখ ঢেকে শুয়ে পড়লেন তিনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে বুুঝি আর সুখি মানুষ এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আর নেই। গত এক যুগ ধরে সেরার তকমা পরে রয়েছেন। একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন। ক্লাবের জার্সি গায়ে একের পর এক শিরোপাও জিতছেন; কিন্তু কেন যেন অনেকেই তাকে সেরা মানতে রাজি নন।

সবারই একটাই কথা, ক্লাবের হয়ে দুনিয়া জয় করে ফেললেও লাভ নেই, জাতীয় দলের হয়ে তো অন্তত একটি ট্রফি জিততে হবে! না হয় সেরা বলবো কিভাবে।

একই কথা লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও প্রজোয্য। ভক্তরা তো একধাপ এগিয়ে পেলে-ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের অবসানও করে দিচ্ছেন মেসিকে দিয়ে। সবারই এক কথা, পেলে-ম্যারাডোনার চেয়ে সেরা ফুটবলার মেসি। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি যে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য, সেটিই তো অধরা মেসির কাছে।

চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছেন। সর্বশেষ টানা তিনটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছেন। বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা। ২০১৫ এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা হেরেছে চিলির কাছে। তার আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেছে জার্মানির কাছে। সবশেষে শিরোপা জিততে না পেরে অভিমানে, ক্ষোভে-দুঃখে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরেরই ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন মেসি। বলেছেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমাকে দিয়ে আর হবে না। আমাকে দিয়ে আর নয়। অনেক চেষ্টা করেছি আমি ব্যার্থ।’

একই সময়ে জাতীয় দলের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও উঠে গেলেন ইউরোর ফাইনালে। সবারই প্রশ্ন, এবার মেসিকে হারাতে পারবেন তো রোনালদো? কারণ, ফুটবল পৃথিবী শাসন করলেও, জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য এই দু’জনের কারও নেই। রোনালদো যদি জিতে যেতে পারেন, তাহলে প্রশ্নাতীতভাবে রোনালদোই হয়ে যাবেন মেসির চেয়ে সেরা।

তিনি পাঁচটি ব্যালন ডি অর জিততে পারেন, কিন্তু রোনালদো তো একটি ইউরো জিতে গেছেন। সুতরাং, নিজে গোল করতে না পারলেও, দলকে জিতিয়েছেন ইউরো শিরোপা। এমনকি সেটা প্রথমবারেরমত। আর এ ক্ষেত্রেই রোনালদোর কাছে নিরঙ্কুশভাবে হেরে গেলেন লিওনেল মেসি।

এ কারণেই ম্যাচ শেষে আবারও ন্যানি রোনালদোর হাতে বেধে দিলেন নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। ইউরোর শিরোপাটা তুলে নিলেন রোনালদোই। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটলেও আনন্দের কোন কমতি নেই। সবার মধ্যমনি হয়ে ছিলেন। ট্রফি নিয়ে একা পোজ দিয়েছেন। একা ল্যাপ অব অনার দিয়েছেন। সতীরা, সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন রোনালদোকে। এ যেন, শিরোপা জয়ের জন্য নয়, শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারার জন্যই।