মেইন ম্যেনু

মেসির জোড়া গোলে বার্সার দারুণ জয়

প্রাণপণ চেষ্টা করেও লিওনেল মেসি-নেইমার-লুইস সুয়ারেস সমৃদ্ধ বার্সেলোনাকে ঠেকাতে পারেনি আর্সেনাল। মেসির জোড়া গোলে এমিরেটস স্টেডিয়াম থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে শিরোপাধারীরা। এমএসএন ত্রয়ীর অন্য দুইজন নেইমার-সুয়ারেস গোল না পেলেও পুরো ম্যাচ জুড়ে খেলেছেন দারুণ।

মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচে লুইস এনরিকের দলের জয়টি ২-০ গোলে। মেসি দুটি গোলই করেন দ্বিতীয়ার্ধে।

সাম্প্রতিক ফর্ম, ইতিহাস সবই বার্সেলোনার পক্ষে ছিল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে টানা ৩২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত স্পেনের অন্যতম সেরা দলটির বিপক্ষে নিজেদের মাঠে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে আর্সেনাল।

গোলের জন্য মরিয়া বার্সেলোনাকে কয়েকবার প্রতি-আক্রমণে কাঁপিয়েও দেয় আর্সেনাল। কিন্তু হাভিয়ের মাসচেরানো, মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানদের প্রতিরোধ ভাঙা তাদের সম্ভব হয়নি। কখনও ডিফেন্ডার মাসচেরানো দলকে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন কখনও দলের ত্রাতা হয়ে উঠেন জার্মান তরুণ গোলরক্ষক টের স্টেগান।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মেসি-নেইমার-সুয়ারেস ত্রয়ীর নৈপুণ্যে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে বার্সেলোনার সামনে। সেবার কোনোমতে বেঁচে যায় আর্সেনাল।

একই মেজাজে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা বার্সেলোনা এগিয়ে যেতে পারত শুরুতেই। ৪৯তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে গোল করতে পারেননি ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। ৬৬তম মিনিটে মেসির একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন পের মের্টেসকার।

৭১তম মিনিটে আর কেউ ঠেকাতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। অবশ্য মেসির এই গোলে দারুণ অবদান রয়েছে নেইমারের। গোলের সূচনা করেন ব্রাজিলের অধিনায়কই। নিজেদের অর্ধ থেকে তিনি সামনে সুয়ারেসকে বল বাড়িয়েই দ্রুত এগিয়ে যান ডি-বক্সের দিকে। বল ফেরত পেয়ে নিজে শট না নিয়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে পাঠান ডানে থাকা মেসিকে। বা পাঁয়ের প্রথম ছোঁয়ায় পেতর চেককে ধোঁকা দিয়ে জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে দেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।

৭৮তম মিনিটে আবার সুযোগ আগে বার্সেলোনার সামনে। এবার গোল পেতে পারতেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার সুয়ারেস। কিন্তু তার শট বারে লেগে ফিরলে সেবার হতাশ হতে হয় অতিথিদের।

ম্যাথিউ ফ্লামিনি মেসিকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া করেননি মেসি। ৮৩তম মিনিটে তার দ্বিতীয় গোলে জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের।

বাকি সময়ে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। কোনো গোল শোধ করতে পারেনি আর্সেনালও। এই হারে শেষ আটে যাওয়ার পথ অনেক কঠিন হয়ে গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটির।

টানা ৩৩ ম্যাচ ধরে অপরাজিত বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো ভীষণ কঠিনই হবে আর্সেনালের জন্য।