মেইন ম্যেনু

মেসি-রোনালদোর আয় বড্ড কম!

৬১৫ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে এখন পর্যন্ত রোনালদোর আয়। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির আয় ৫৭০ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের আয় ৩০২ কোটি টাকা। মেসি-রোনালদোর আয় বছরে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। সেই তাঁরাই নাকি আয় করছেন অনেক কম!
ব্যাখ্যা শুনলে আপনিও মেনে নেবেন, হ্যাঁ, এই দুজন প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না বটে। যা পাওয়া উচিত তার চেয়ে পাচ্ছেন অনেক কম। অর্থনীতি বিষয়ক পত্রিকা ফোর্বস-এর এক নিবন্ধে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ববি ম্যাকম্যাহন।
আয়ের দিক থেকে বিশ্বের অন্য সব ফুটবলারদের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে আছেন মেসি-রোনালদো। তাঁরা দুজন যা আয় করেছেন, কোনো ফুটবলার তা আয় করার স্বপ্নও দেখতে পারেনি আগে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের ধনী ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে আছেন রোনালদো এবং মেসি। শীর্ষ দশে নেই অন্য কোনো ফুটবলার। কেবল বিজ্ঞাপনের বাজারেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করছেন না তাঁরা দুজন, নিজ নিজ ক্লাব থেকেও তাঁদের পারিশ্রমিক সতীর্থদের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রাথমিকভাবে মনে হয়, অন্যায় করা হচ্ছে অন্যসব ফুটবলারদের সঙ্গে। হাজার হলেও ফুটবল তো একটি দলীয় খেলা। দলীয় সহযোগিতা না পেলে তো এত ভালো খেলা সম্ভব হতো না তাঁদের পক্ষে। কিন্তু সবকিছু ভুলে কেবল পরিসংখ্যানের দিকেই তাকালেই বোঝা যাবে, ফুটবলকে পুরোপুরি অন্য স্তরে নিয়ে যাচ্ছেন এ দুজন। কেবল লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার দিকে তাকানো যাক।
গত মৌসুমে ৪৮টি গোল দিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন রোনালদো, ৪৩টি গোল দিয়ে দ্বিতীয় মেসি। তৃতীয় স্থানে থাকা নেইমার এবং অ্যান্থনি গ্রিজমানের গোল সংখ্যা মাত্র ২২! সহজ হিসাব, মেসি-রোনালদো বাকিদের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
গোল সহযোগিতার তালিকাতেও মেসি-রোনালদোর জয়জয়কার। মেসি সতীর্থদের গোল করিয়েছেন ১৮ বার। রোনালদো করিয়েছেন ১৬ বার। এখানে তবু সুয়ারেজ ১৪টি অ্যাসিস্ট করে এই দুজনের ধারে কাছে আছেন। গত মৌসুমেই রোনালদো মোট আটবার হ্যাটট্রিক করেছেন। মেসি করেছেন পাঁচটি হ্যাটট্রিক। রোনালদো এই আট হ্যাটট্রিকের একটিতে আবার করেছিলেন পাঁচটি গোল। আরেকবার চারটি। মেসি-রোনালদোর পরস্পরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই তীব্র নেশা হ্যাটট্রিকের মতো কঠিন ব্যাপারও জলভাত হয়ে গেছে!
কেবল গত মৌসুমই নয়। লা লিগায় রোনালদোর আবির্ভাবের পর থেকেই লা লিগা পরিণত হয়েছে দুই ঘোড়ার দৌড়ে। আবির্ভাবের পর লা লিগায় ২০৩ ম্যাচ খেলে ২৩১ গোল করেছেন রোনালদো, মেসি ২০৯ ম্যাচে ২৩৩ গোল। ম্যাচ প্রতি মেসির গোল ১.১১, রোনালদোর ১.১৩। ম্যাচ প্রতি গোলে তাঁদের সঙ্গে পাত্তাই পাবেন অন্য অন্য কেউ। গোল সংখ্যাতেও না। মাত্র ছয় মৌসুম খেলেই লা লিগায় রিয়ালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট মাথায় দিয়ে ফেলেছেন রোনালদো। আর মেসি তো লা লিগার ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন মাত্র ২৮ বছর বয়সে।
চ্যাম্পিয়নস লিগেও দুজনের জয়জয়কার। গত আট মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগের​ সর্বোচ্চ গোলদাতার নামে খুঁজে পাবেন এ দুজনকে। কেবলমাত্র নেইমার গতবার এই দুজনকে ধরতে পেরেছিলেন গোলসংখ্যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষ স্থানটিও একসঙ্গে ভাগাভাগি করছেন এই দুজন। দুজনই করেছেন ৭৭টি গোল। বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে ইব্রাহিমোভিচ ও করিম বেনজেমার গোল সংখ্যা ৪৩টি। অন্যদের পরিসংখ্যান না দেওয়াই ভালো।
ফুটবল গোলের খেলা হলেও কেবল গোল দিয়েই খেলোয়াড়দের বিবেচনা করা যায় না। কিন্তু অন্য সব বিবেচনাতেও এই দুজনের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না অন্য কেউ। খেলার ধরন, মুহূর্তের মাঝে খেলার ধারা পাল্টে দেওয়া কিংবা মাঝেমধ্যেই অবিশ্বাস্য জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়ে মাঠ মাতিয়েই নিজেদের দিন দিন অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ভক্ত সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। তাঁদের এই ভক্ত সংখ্যা এবং ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করেই সাড়া বিশ্বে দারুণ ব্যবসা করছে তাঁদের নিজ নিজ ক্লাব দুটি। মাঠ ও মাঠের বাইরে দুজন দলকে যা দিচ্ছেন তা হিসেব করলে তাই মনে হয়, অবিচারই করা হচ্ছে রোনালদো মেসির সঙ্গে। ফুটবলকে যা দিচ্ছেন এই দুজন তার তুলনায় খুব অল্পই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তাঁরা।
সাদা চোখে মেসি-রোনালদোর আয় চোখ কপালে তুলে দিতে পারে আপনার। কিন্তু ফুটবলে তাঁদের অবদানকে অর্থমূল্যে রূপান্তর যদি করেন, মানতেই হবে, রোনালদো-মেসি প্রাপ্য অনুযায়ী কমই পান!