মেইন ম্যেনু

মেহেন্দিগঞ্জে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর কর্মকর্তা উধাও

বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী শুরু হয়েছে বরিশালের একমাত্র মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। এ কর্মসূচীর প্রশিক্ষকদের তিন মাসের ভাতার কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংশি¬ষ্ট উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার গত ২৪ দিন থেকে উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিন মাসব্যাপী যুবক ও যুব মহিলাদের নামেমাত্র ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রশিক্ষন গত জুন মাসে সমাপ্ত করা হয়। কর্মসূচীর শর্তানুযায়ী ব্যাপক প্রচারনার কথা থাকলেও যুব উন্নয়ন অফিসের কার্যক্রম ছিলো নামেমাত্র। প্রচারনার জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও কোন প্রচারনাই চালানো হয়নি। যে কারণে ২ হাজার ৫’শ বেকার যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থানের পরিবর্তে মাত্র ৭০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ২৮ জুন প্রকল্পেরের প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন খাতের কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. দোলোয়ার হোসাইন মেহেন্দিগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা (প্রশিক্ষক) যুব উন্নয়ন অফিসারের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

প্রশিক্ষক উপজেলা সমবায় অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিটি ক্লাশের জন্য ৫’শ টাকা করে বরাদ্ধ থাকলেও তাকে দিয়ে ৪০টি ক্লাশ করিয়ে ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকী টাকার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও যুব উন্নয়ন অফিসার ফোন রিসিফ করেননি।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হরুন-অর রশিদ বলেন, আমি ৬০টি ক্লাশ নিয়েছি। আমার পাওনা সম্মানী ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৫’শ টাকা। উপজেলা পল¬ী উন্নয়ন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি ৩৮টি ক্লাশ নিয়েছেন। তার সম্মানী ভাতা ১৯ হাজার টাকার পরিবর্তে তাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন জানান, যুব উন্নয়ন অফিসার তাকে সিডিউল, রুটিন, তথ্য এবং ভাতার টাকা কিছুই দেয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পুতুল রানী মন্ডল, উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক কর্মকর্তারা (প্রশিক্ষক) জানান, গত ৩০জুন সমূদয় টাকা পরিশোধের কথা বলে যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসাইন প্রশিক্ষকদের ভাতা না দিয়ে ২৮ জুন উধাও হয়ে গেছেন। অদ্যবর্ধি অসংখ্যবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ২৮জুন থেকে ওই কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে তার অনুপস্থিতির কারনে প্রশিক্ষনার্থী যুবক ও যুব মহিলাদের গত ১ জুলাই থেকে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোয়েব ফারুকের সাথে মোবাইল ফোনে প্রশিক্ষকদের ভাতার টাকা না দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও প্রশিক্ষক ছিলাম। আমাকেও কোন ভাতার টাকা দেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পর্যন্ত অফিসে অনুপস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী সেলিম রেজা বলেন, প্রশিক্ষনের সূচীপত্রের সিডিউল পর্যন্ত কাউকে দেখানো হয়নি। মোট কতোটি সেশন কতোজন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন তা পর্যন্ত অফিসের কেউ জানেন না।

তিনি আরও জানান, সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে দুটি কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেও তা ক্রয় করা হয়নি। গত ৯ জুন আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রকল্প পরিচালক আবুল হাসান খাঁন ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিলেও কোন আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়নি। যন্ত্রাশংসহ মেরামত বাবদ গত ১৭ জুন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা দিয়েও কোন কাজ করা হয়নি। পুরো টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের জন্য উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার দোলোয়ার হোসাইন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন বলেও ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

অপরএকটি সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অফিসার উপজেলার সিন্নিরচর ও তালুকদারচর আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দাদের পেশা ভিত্তিক প্রশিক্ষনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বরাদ্ধকৃত প্রশিক্ষনের ৪ লাখ ৮০হাজার টাকার চেক গত ২৬ ফেব্র“য়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে নিজের নামে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক শাখায় ইস্যু করিয়ে নিয়েছেন। অথচ আবাসন প্রকল্পের কোন বাসিন্ধাদেরকেই প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়নি।

অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল (০১৭১৫-০৪৭৭৮১) ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাজিম-উর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।