মেইন ম্যেনু

মোদির আকস্মিক সফরে তীব্র সমালোচনায় কংগ্রেস

মস্কো সফর থেকে ফেরার পথে কূটনৈতিক নিয়মকানুনের বালাই না করে শুক্রবার পাকিস্তান সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরেন্দ্র মোদি। এমন সফরকে বিরোধী দল কংগ্রেস ‘অরাষ্ট্রনায়কোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর সমালোচনা করেছে।

খবর এএফপির।

ভারতের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, খারাপ সম্পর্ককে জোড়া লাগাতে মোদির নিজস্ব ক্ষমতা ও আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ এই হঠাৎ সফর।

মোদির এ সফর কোনো কোনো মহলের প্রশংসা কুড়ালেও দেশে প্রধান বিরোধী দল এর সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসের একাধিক নেতা এই বৈঠককে ‘হঠাৎ কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করে একে অরাষ্ট্রনায়কোচিত বলে অভিহিত করেছেন।

এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঘোষণা টুইটারে দেওয়ারও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। কংগ্রেস বলেছে, কূটনীতির বিষয়টিকে ‘আরও গুরুত্বের সঙ্গে’ নেওয়া উচিত।

একই সময়ে ভারতের শিল্পপতি সাজ্জান জিন্দালের পাকিস্তানে উপস্থিত থাকার দিকে ইঙ্গিত করে কংগ্রেস বলেছে, ব্যক্তির ব্যবসায়িক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের উদ্দেশ্য। নামী ইস্পাত শিল্পমালিক সাজ্জান জিন্দাল বছর খানেক ধরে মোদি ও নওয়াজের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখছেন বলে খবর রয়েছে।

নওয়াজ শরিফ তার নিজের জন্মদিন এবং নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার লাহোরে তার পৈতৃক বাড়িতেই ছিলেন। মোদি সেখানেই গিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন শরিফের সঙ্গে।

বৈঠকে উপস্থিত এক সূত্র জানায়, পরমাণু শক্তিধর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের নেতা ‘পুরোনো বন্ধুর’ মতো আলোচনা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় শরিফকে বলেন, ‘আপনার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত।’

মোদির সফরের পর ভারতে একাধিক টেলিভিশন জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ একে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, শান্তির জন্য ঝুঁকি নিতে যে তিনি প্রস্তুত, মোদি তা স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন।

সাধারণ পাকিস্তানিরাও মোটের ওপর দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনী দৃশ্যত এ সফরে খুশি হয়নি।

সেনাবাহিনীর পক্ষের বিভিন্ন টুইটার অ্যাকাউন্টে এর সমালোচনায় তা স্পষ্ট। মনে করা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলো সেনা কর্তৃপক্ষই চালায়। সীমান্তে নিয়মিত গোলাগুলির শিকার পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের অধিবাসীরাও এ প্রয়াসকে সন্দেহের চোখেই দেখছে।