মেইন ম্যেনু

মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা যে রোগের ঝুঁকিতে থাকে বেশি

ডিপ্রেশন, অটোইমিউন ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ সহ অন্যান্য আরো কিছু রোগ মেয়েদেরই হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। গবেষণায় জানা গেছে যে, জিনগত ভাবে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। এমন ৭ টি রোগের কথাই আজ আমরা জানবো যা নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি পীড়িত করে।

১। কমন ফ্লু

জন হপকিন্স ব্লুমবারগ স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর গবেষকগণ জানিয়েছেন যে, স্ত্রী হরমোন ইস্ট্রোজেন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের পুনরাবৃত্তি কমায়। পুরুষের দেহেও ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয় কম পরিমাণে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এই হরমোন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের পুনরাবৃত্তি তেমনভাবে কমাতে পারেনা। অর্থাৎ নারীর চেয়ে পুরুষই ফ্লুতে আক্রান্ত হয় বেশি।

২। ক্যান্সার

গবেষণায় বার বার এটাই পাওয়া গেছে যে, নারীর চেয়ে পুরুষের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি। যদিও কিছু ক্যান্সার নারীদের বেশি হয়ে থাকে। লিভার ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের হয়ে থাকে বেশি। গবেষণায় জানা যায় যে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই ধরণের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা ২-৪ গুণ বেশি।

৩। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার

মেয়ে শিশুর তুলনায় ছেলে শিশুদেরই অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এর কারণ সম্ভবত জন্মের সময় মেয়ে শিশুদের মস্তিস্কের গ্রেম্যাটার ছেলে শিশুদেরচেয়ে বেশি থাকে।

৪। ডায়াবেটিস

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদেরই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডায়াবেটোলজিয়া নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, জৈবিক ভাবে পুরুষদেরই ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই লাইফস্টাইল ডিজিজে আক্রান্ত ৯৫,০০০ নারী-পুরুষকে নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

৫। কিডনি রোগ

আপনার কিডনির যত্ন নিন। কারণ গবেষকেরা এটাই খুঁজে পেয়েছেন যে, ইন্ড ষ্টেজ রেনাল অর কিডনি ডিজিজ (ESRD) হওয়ার প্রবণতা নারীদের চেয়ে পুরুষদেরই বেশি।ESRD তখনই হয় যখন কিডনি দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে সক্ষম থাকেনা এবং এটাই ক্রনিক কিডনি ডিজিজের সর্বশেষ অবস্থা।

৬। মাদকাশক্তি

এখানে অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি মাদকাসক্ত হয়ে থাকে। মাদকাশক্তি ক্রনিক ডিজিজের মতোই একটি খারাপ অভ্যাস যা ত্যাগ করা খুব কঠিন।

৭। অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার (ASPD)

পুরুষের ক্ষেত্রে ASPD এর প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা ২-৪% এবং নারীর ক্ষেত্রে ০.৫% থেকে ১% পর্যন্ত হয়। এই ধরণের ব্যক্তিত্বের সমস্যা সামাজিক দায়িত্বহীনতার এবং অনুসূচনাহীন আচরণের সাথে সম্পর্কিত। ASPD তে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়ই নিয়ম ভঙ্গ করে থাকেন।

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের জীবন যাপনের নিয়ম প্রায়ই নিম্ন মাত্রার হওয়ায় এই রোগগুলোর ঝুঁকিতে থাকে পুরুষরাই বেশি।প্রিয়.কম