মেইন ম্যেনু

মেয়ের সামনে বাবার প্রাণ নিল হাঙর

মেয়ের সামনে বাবার প্রাণ কেড়ে নিল হাঙর। ১৫ ফিট লম্বা একটি সাদা হাঙর লোকটিকে কামড়ে এমনভাবে থেঁতলে দেয় যে, তাতেই তার প্রাণ সংহার হয়।

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে বাবা ও মেয়ে মিলে স্ক্যালপ ও শেলফিস (সমুদ্রের শামুক) সংগ্রহ করছিলেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে উপকূলে অগভীর জলের তলদেশে ডুবিয়ে ক্যালপ সংগ্রহ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে কিছু শেলফিস নিয়ে নৌকায় উঠে আসেন মেয়েটি।

এদিকে তার বাবারও সে সময় নৌকায় উঠে আসার কথা। তার আসতে দেরি হওয়ায় পানিতে ঝাঁপ দেন মেয়েটি। ডুবিয়ে তলদেশে যেতেই দেখেন একটি হাঙর তার বাবাকে খ্যাঁচ খ্যাঁচ করে কামড়ে থেঁতলে দিচ্ছে। পানিতে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দৃশ্য দেখে নৌকায় ফিরে তাসমানিয়া পুলিশকে জরুরি নম্বরে ফোন দেন। পুলিশ ছুটে আসে। কিন্তু তার আগেই উপকূলের মাছ ধরার নৌকার জেলেরা এসে তাকে পানি থেকে টেনে ওঠান। অক্সিজেন নেওয়ার পাইপ ধরে টেনে ওঠানো হয় তাকে। এরই মধ্যে পুলিশ এসে যায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার দেহ থেকে প্রাণ বিদায় নিয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সমুদ্রের ‘ছোট দানব’ হাঙরের আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেলি সৈকতে অগভীর জলে হাঙরের আক্রমণে প্রাণ যায় এক জাপানির।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে সার্ফিং প্রতিযোগিতা চলার সময় অস্ট্রেলীয় সার্ফার মাইক ফ্যানিং হাঙরের মুখে পড়েন। অবশ্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। সার্ফিং প্রতিযোগিতা টিভিতে লাইভ দেখানো হচ্ছিল।

শার্ক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত হাঙরের আক্রমণে ১ হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ২ হাজার। সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে, ২৭৭ জন। তার যুক্তরাষ্ট্রে (১৬১) ও দক্ষিণ আফ্রিকায় (১০৪) জন।