মেইন ম্যেনু

“মেয়ে ডুবে মরুক, পরপুরুষ যেন না ছোঁয়” ॥ শেষ পর্যন্ত মারাই গেল মেয়েটি !

সংস্কার, নাকি নির্মমতা! মেয়ে ডুবে যাচ্ছে জলে। বাবা চাইছে ডুবে যাক। কারণ, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তার মেয়েকে বাঁচাতে গেলে অন্য লোকের স্পর্শে মেয়ে অপবিত্র হয়ে যাবে। তার চেয়ে মৃত্যুই ভালো! এমনই বেনজির ও নির্মম এক ‘অনারকিলিং’-এর ঘটনা ঘটল দুবাইয়ে!

দুবাইয়ের একটি সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে পিকনিক করছিল এক ব্যক্তি। তার ২০ বছরের মেয়ে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে অনেকটাই দূরে চলে যায়। ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যাচ্ছিল। সৈকতের দায়িত্বে থাকা উদ্ধারকারী দল স্বভাবতই লাইফগার্ড নিয়ে মেয়েটিকে বাঁচাতে ছোটে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের বাধা দেয় মেয়েটির বাবা!

দুবাই পুলিশের ডেপুটি ডিরেক্টর (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্ট) আহমেদ বারকিবা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের রীতিমতো হাত-পা টেনে ধরে রাখে ওই ব্যক্তি। এদিকে মেয়ে তখন ডুবে যাচ্ছে জলে। ব্যক্তির বক্তব্য, উদ্ধারকারী দলের লোকেরা তার মেয়েকে বাঁচাতে গেলে, অন্য পুরুষের স্পর্শে তার মেয়ে অপবিত্র হয়ে যাবে। তার থেকে নাকি মৃত্যুই শ্রেয়। বাঁচানোর সুযোগ থাকলেও, বাবার গোঁড়ামিতে জলে ডুবে মারাই গেল মেয়েটি।

বারকিবার কথায়, ‘আমার দীর্ঘ পেশাজীবনে এরকম আশ্চর্য ঘটনার অভিজ্ঞতা নেই। আমি জীবনে ভুলব না।’ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে হারিয়ে এতটুকু মর্মাহত নয় ওই ব্যক্তি। তার দাবি, পরপুরুষের স্পর্শের চেয়ে মেয়ের মরে যাওয়াই ভালো হয়েছে। অপবিত্র তো হতে হয়নি।’