মেইন ম্যেনু

ভোলার লালমোহনে শতাধিক অবৈধ মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণহীন ॥

মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশন ফি ১০ হাজার টাকা করার দাবীতে মানববন্ধন

ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়ায় ভাড়ায় চালিত প্রায় শতাধিক অবৈধ মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলাচল করছে। আর এ সকল মোটর সাইকেল এর অধিকংশ ড্রাইভার অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর। যার কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা।

অন্যদিকে বাড়ছে ছিনতাই, মাদকের ব্যবসাসহ নানান অপরাধ প্রবণতা। পুলিশ প্রশাসন ও এদেরকে নিয়ন্ত্রন করতে হিমশিম খাচ্ছে। চেকপোষ্ট বসিয়ে মাঝে মাঝে এসব ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল আটক করলেও বিভিন্ন জনের টেলিফোনের কারনে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় এ সমস্থ অবৈধ যানবাহনকে একটি কাঠামোগত আইনের আওতায় আনতে না পারলে প্রতিনিয়ত বাড়বে দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রবনতা এমন দাবী সচেতন মহলের।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫/৬ শতাদিক মোটর সাইকেল ‘অনটেস্ট’ কিংবা ‘এএফআর’ সাইনর্বোড লাগিয়ে চলাচল করছে যাদের মধ্যে অধিকাংশই ভাড়ায় চালিত। ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলগুলো অধিকাংশই ৪/৫ জন যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করে। আবার এদের অধিকাংশ ড্রাইভারই পূর্বে মডিফাই টেম্পুর হেলপার, ভটভটি কিংবা রিক্সা চালক। যার কারনে এরা অনবিজ্ঞ থাকায় দিনদিন দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া গজারিয়া কয়েকটি স্পটে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মোটর সাইকেলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে নর্থ গজারিয়া গুচ্ছ গ্রাম এলাকায়, পাঙ্গাঁশিয়া ব্রীজ ও পার্শ্ববতি ওচমানগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। অনেক ভুক্তভোগী মান সন্মানের দিকে চিন্তা করে থানায় কোন অভিযোগও করেন না।

গজারিয়ার নাম প্রকাশ না করে এক ইউপি সদস্য জানায়, সন্ধ্যার পর পর এ সমস্ত মোটর সাইকেল যোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে দেহ ব্যবসায় জড়িত অনেক নারী সরবরাহ করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি আরো জানায়, এসব অবৈধ কর্মকান্ডের ফলে এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গজারিয়ার একটি সংঘ্যবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী এ সমস্ত মোটর সাইকেল যোগে বিভিন্ন স্পট থেকে মাদক সরবরাহ করছে। এবং মাদক সেবীরা বিভিন্ন স্পট থেকে মোবাইল ফোনে মাদক ক্রয় করে, পরে মোটর সাইকেল দিয়ে সেবন কারির হাতে পৌছে দেয়। এ সমস্থ মোটর সাইকেলের লাইসেন্স কিংবা চালকদের নিদিষ্ট পোশাক না থাকার কারনে তাদের কে সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারনে ভুক্তভোগী কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এদের কে সনাক্ত করতে পারছেনা। তবে ভুক্তভোগী মহলের মতে এ সমস্ত চালকদের যদি নির্দিষ্ট কাঠামো কিংবা সনাক্ত করনের ব্যবস্তা থাকত তবে কোন অপরাধ করে তারা সহজেই পার পেতো না।

এদিকে ভোলার লালমোহনে প্রায় ২ হাজার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক বিপাকে পড়েছে। ২ জুনের পর প্রশাসন থেকে অবৈধ মোটরসাইকেল আটকের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর হত দরিদ্র এসব মোটরসাইকেল চালকরা চরম বিপাকে পড়ে। ২ জুনের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য প্রশাসন থেকে প্রচারণাও চালানো হয়। ৩ জুন থেকে অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণায় লালমোহনের প্রায় ২ হাজার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকের মাথায় হাত পড়েছে। তারা রেজিষ্ট্রেশন করার সুযোগ না পাওয়ায় ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছেন।

সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার মোটরসাইকেল অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়ায় যাত্রী আনা নেওয়া করে। ভাড়ায় চালিত অধিকাংশ মোটরসাইকেল এর কাগজপত্র নেই। এসব গাড়ি সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে যশোর বেনাপোল রুট দিয়ে ভারত থেকে আনা হয়। লালমোহনের কয়েকজন চিহ্নিত ব্যবসায়ী এসব গাড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত। যাদের কাছ থেকে কম মূল্যে এ টানা (ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া) গাড়ি কিনে রাস্তায় চালানো হয়। আছে চোরাই মোটরসাইকেলও। এসব গাড়ির কোন কাগজপত্র নেই। যার কারণে এ মোটরসাইকেলগুলো ঘোষিত সময়ের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারছে না। শুধুমাত্র বৈধ গাড়ির জন্য ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ২ জুনের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রহীন মোটরসাইকেল চালকরা রেজিষ্ট্রেশনের সুযোগ না পাওয়ায় তারা এখন কি করবে তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ গাড়িগুলোর জন্য কোন নির্দেশনা না থাকায় এগুলো ৩ জুন থেকে অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, লালমোহনে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকের অধিকাংশ চালকই হত দরিদ্র ঘরের। তারা কোন কাজ না পেয়ে সংসার চালানোর তাগিদে বিভিন্ন এনজিওর থেকে ঋণ নিয়ে চরা সুদে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল কিনেছে। তা দিয়ে ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কম টাকায় কেনা যায় বলে এদের অধিকাংশই টানা মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালাচ্ছে। এর জন্য দায়ী যারা এ টানা মোটরসাইকেল ব্যবসা করে তারা। টানা গাড়ির ব্যবসায়ীরা রাতারাতি টাকার মালিক বনে গেলেও তাদের কাছ থেকে টানা গাড়ি ক্রয় করে এখন বিপাকে পড়েছে চালকরা। আর টানা গাড়ির ব্যবসায়ীরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

লালমোহন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বশার ৩ বছর ধরে মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী টানছেন। তিনি জানান, আমরা যেভাবে হোক একটা কাজ করে সৎভাবে জীবিকা অর্জন করছি। আমাদের এ আয়ের পথ যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা বউ সন্তান নিয়ে না খেয়ে মরবো। আমাদের জন্য সরকারের সুযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তা না হলে আমাদের রুজি বন্ধ হয়ে যাবে।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, আমাদের গাড়িগুলো চোরাই নয়। অনেক গাড়ির কাগজপত্র আছে। যেসব গাড়ি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে সেসব গাড়িগুলোর জন্য একটা সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে এসব গাড়ির চালকরা সংসার চালাতে পারবে না।
আর রেজিষ্ট্রেশনের ফিও কমাতে হবে। এজন্য আমরা মানববন্ধন পালন করবো।

এদিকে লালমোহন থানার ওসির দায়ীত্বে থাকা এসআই রফিক জানান, আমরা মাইকিং করেছি, প্রচারণা চালাচ্ছি ২ জুনের মধ্যে সকল গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য। যারা রেজিষ্ট্রেশন করবে না সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে ৩ জুন থেকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হবে। অবৈধ গাড়ির বেলায় কি হবে, এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে যেসব গাড়ি আনা হয়েছে তা অবৈধ গাড়ি। এসব গাড়ি ছাড় পাবে না। এগুলো আটক করে অকশনে (নিলামে) তোলা হবে।গতকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় মোটরসাইকেল ধরা অভিযান দেখা গেছে।

অপরদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে মোটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন ফি ১০ হাজার টাকা করার দাবীতে মানববন্ধন করেছে রেজিষ্ট্রেশনে আগ্রহী মালিকরা। বোরহানউদ্দিন পৌরশহরে প্রায় সাড়ে ৩ শত মোটরসাইকেল মালিক ও চালক এতে অংশ নেয়। এ সময় তাদের দাবির প্রতি ছাত্র ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার লোক এতাত্বতা প্রকাশ করে। মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তরা বলেন, মোটর সাইকেল এখন আর উচ্চ বিত্তের বাহন নয়। ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালিয়ে শত শত মানুষের সংসার চলে। সাড়ে উনিশ হাজার টাকারও বেশী ফি দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা প্রায় অসম্ভব। সমাবেশে বক্তৃতা করেন, দুলাল শিকদার, মিশ্র দাস উজ্জল, আরিফ পন্ডিত, মাহে আলম, জসিম, কুদ্দুস ও প্রমূখ।



« (পূর্বের সংবাদ)