মেইন ম্যেনু

মোদিতে মোদিত ঢাকা

দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকা আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

রাজধানীজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানীকে। বিমানবন্দর থেকে সোনারগাঁও হোটেল, হোটেল থেকে বঙ্গভবন, এমনকি সফরকালে তার চলাচলের রাস্তার দু’পাশ ও আইল্যান্ডে মোদির ছবি টাঙানো হয়েছে। দু’দেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও টাঙানো হয়েছে। কোথাও আবার দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ছবিও শোভা পাচ্ছে রাস্তার দু’পাশে।

মোদির চলাচলে রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত হকারমুক্ত করা হয়েছে কয়েকদিন আগেই। এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

এদিকে মোদির সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে ঢাকায় আসছেন মাত্র ২২ জন। এতে কেন্দ্রিয় কোন মন্ত্রী থাকছেন না। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চারটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এই সফরে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ছাড়া আর কেউই আসছেন না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে এই সফরে মোদি আমন্ত্রণ জানালেও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তারা আসছেন না। তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এই সফরে আসছেন না।

সম্প্রতি ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের পর নরেন্দ্র মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও দুই দেশের মধ্যে কমপক্ষে ২০টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মোদির ঢাকা সফরে উভয়দেশের মধ্যে প্রথমে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর ১০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দু’পক্ষ আরও বেশ কয়েকটি চুক্তি করতে আগ্রহী হয়েছে। সে কারণে চুক্তির পরিধিও বাড়ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে বহু প্রতিক্ষিত তিস্তা চুক্তি এবারও হচ্ছে না। এমনকি আলোচ্যসূচিতেও তিস্তা চুক্তির বিষয়টি রাখা হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মোদির ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তির জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে কানেকটিভিটি বিষয়ক চুক্তি অন্যতম। এর ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়বে এবং বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাবে। এরপর রয়েছে বহু আলোচিত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের দলিল বিনিময়।

এছাড়া কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু, ঢাকা-শিলং বাস সার্ভিস চালু, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও নবায়ন, নৌ ট্রানজিট প্রটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধি ও নবায়ন, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি, মানবপাচার বিষয়ে চুক্তি, বিদ্যুৎ সহযোগিতা চুক্তি, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চল সমঝোতা চুক্তি, পণ্য রফতানিতে দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে চুক্তি, কোস্টগার্ডকে শক্তিশালীকরণ বিষয়ে চুক্তি, ভারতে ব্যান্ডউইডথ বিক্রি, সন্ত্রাস দমন বিষয়ক সমঝোতা চুক্তি ও সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা চুক্তি। তবে এখনও বেশ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ তিন বছর আলোচনা শেষে এবার ভারতে ব্যান্ডউইডথ রফতানির বিষয়টিও চূড়ান্ত হতে চলেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যান্ডউইডথ রফতানি করে বছরে এক’শ কোটি টাকা আয় করতে পারবে। দেশে বর্তমানে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ উদ্বৃত্ত আছে। এরমধ্যে মাত্র ৩০ জিবিপিএস বাংলাদেশ ব্যবহার করে। বাকি ১৭০ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে না। এই অব্যবহত ব্যান্ডউইডথ থেকে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চুক্তির মেয়াদকাল হবে তিন বছর। এছাড়া প্রথম তিন বছরের চুক্তির পর প্রতিবছর চুক্তি নবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।