মেইন ম্যেনু

মোদির সফর এবং ছিটমহলবাসীর প্রত্যাশা

একটি দেশের অভ্যন্তরে বাস করেও তাদের নেই কোনো দেশ। নেই নাগরিক সুযোগ সুবিধা। একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে তারা অনেকটা বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। তাদের অপরাধ; তাদের জন্ম ছিটমহলে। সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত সংক্রান্ত বিল পাশ হওয়ায় এসব ছিটমহলবাসীর এমন বন্দিদশার অবসান হতে চলেছে।

এদিকে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ছিটমহলবাসীর স্বপ্নের রূপকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ছিটমহলবাসী চেয়ে আছে এবার যেন চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়।

পঞ্চগড়ের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলের সংখ্যা ৩৬টি। ৪৮ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এসব ছিটমহলে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বসবাস করছে। তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক বিশ্বে জন্ম নিয়েও এই মানুষেরা অনেকে দেখেনি মোটর গাড়ি, মায়েরা জানে না পরিবার পরিকল্পনা সম্বন্ধে। তারা একটি দেশের অভ্যন্তরে বাস করেও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ছিটমহলবাসী তাদের নাগরিক অধিকার লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। যৌক্তিক দাবিকে সম্মান জানিয়ে ভারতের লোকসভা স্থলসীমান্ত সংক্রান্ত বিল পাশ করায় পঞ্চগড়ের ছিটমহলবাসী উচ্ছ্বসিত হলেও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছে চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে তো?

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পঞ্চগড়ের ছিটমহলের লোকজন। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তারা বাংলাদেশের নাগরিকদের মতো পূর্ণ সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

উভয় দেশের সরকার চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে ছিটমহলবাসীর সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন পঞ্চগড়-নীলফামারী ছিটমহল সমন্বয় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান।

ছিটমহলে মায়েদের জন্য নেই কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যে কারণে অনেক মহিলা মা হতে গিয়ে মারা যাচ্ছে; আবার অনেক শিশু ত্রুটিপূর্ণভাবে জন্ম নিচ্ছে। তা ছাড়া সেখানে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য নেই কোনো বিদ্যালয়। স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট না থাকায় সমস্যাগুলো আরও প্রকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এজন্য চুক্তিটি বাস্তবায়ন করে সমস্যাগুলোর সমাধান চেয়েছেন ছিটমহলবাসী।

অবহেলিত ছিটমহলের নাগরিকদের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য চলতি বাজেট অধিবেশনে বিশেষ থোক বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ছিটমহল সমন্বয় কমিটির সহসভাপতি আনোয়ার সাদাদ সম্রাট।

পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ছিটমহলবাসী মূল ভূ-খণ্ডে বসবাসকারী নাগরিকদের মতো সমান সুযোগ সুবিধা পাবে।



« (পূর্বের সংবাদ)