মেইন ম্যেনু

মোবাইলের পরিচয়ে যৌনকর্মীকে বিয়ে, পরে হত্যা

মোবাইল ফোনে পরিচয়ে বিয়ে করার পর এক যৌনকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ঢাকার সাভারে বসবাসকারী শরীয়তপুরের এক যুবক।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লঞ্চের কেবিনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে লঞ্চের যাত্রী ও স্টাফরা ঘাতক স্বামীসহ তিনজনকে আটক করে।

মঙ্গলবার ভোরে লঞ্চটি বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

নিহত মিনা আক্তার (২১) কুমিল্লা জেলার হোমনা এলাকার বাসিন্দা ও শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট গ্রামের বাসিন্দা হালিম পাটোয়ারীর ছেলে আনিসের (২৬) স্ত্রী।

বরিশাল নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘাটে অবস্থান করছিলেন। লঞ্চটি ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঘাটে পৌঁছালে পুলিশ ওই তিন যুবককে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন, নিহতের স্বামী আনিস, তার (আনিসের) চাচাতো ভাই আবুল কালাম (২২) ও তার বন্ধু নওগাঁ জেলা সদরের বাসিন্দা সাঈদ হাসানের ছেলে তুষার (২০)। আটককৃতরা সবাই ঢাকার সাভারে থাকেন।

লঞ্চের যাত্রী বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা এনামুল তালুকদার জানান, তিনি লঞ্চের তৃতীয় তলার ওই স্টাফ কেবিনের সামনের ডেকে অবস্থান করছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে কেবিনের ভেতরে দুই যুবক প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরই নারীকণ্ঠে তিনি চিৎকার শুনতে পান। এরপর তিনিসহ লঞ্চের অন্য যাত্রী ও স্টাফরা কেবিনের দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রায় ঘণ্টখানেক পরে ওই দুই যুবক ও নিহতের স্বামী বের হয়ে যেতে চাইলে তাদের আটক করা হয়। পরে কেবিনের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় নারীর মৃতদেহ বিছানায় পরে থাকতে দেখেন যাত্রীরা।

জানা যায়, আনিস অ্যামব্রোয়ডারির কাজ করেন, কালাম লন্ড্রির কাজ ও তুষার জুতোর কারখানায় কাজ করেন। মোবাইল ফোনের পরিচয়ে ঈদের কয়েকদিন পরে ঢাকার মোহাম্মাদপুর এলাকায় বসবাসকারী মিনার সঙ্গে আনিসের বিয়ে হয়।

আনিস জানায়, বিয়ের পর জানতে পারেন মিনা যৌনকর্মী ও তাকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। বিষয়টি তার চাচাতো ভাই কালামকে জানানো হলে সে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং চুক্তি অনুযায়ী আনিসের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরে সোমবার সন্ধ্যায় আনিস তার স্ত্রী মিনাকে সঙ্গে নিয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার কথা বলে বরিশালগামী পারাবত-১০ লঞ্চের মাস্টার কেবিন ভাড়া নেয়। রাত আড়াইটার দিকে মিনা ঘুমিয়ে গেলে আনিস তার চাচাতো ভাই কালাম ও তার বন্ধুকে কেবিনের ভেতরে নেয়। এ সময় তারা ছুরিকাঘাত করে মিনাকে হত্যা করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আজাদ রহমান বলেন, ঘাতকদের কাছ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।